খুলনায় পৃথক দু'টি হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
প্রতীকী ছবি
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০১৯ | ০৬:০৫
খুলনায় পৃথক দু'টি হত্যা মামলায় ৮ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলার তেরখাদা উপজেলার লস্করপুর গ্রামের রিকশা চালক আবদুল আলী শেখ হত্যা মামলায় ৭ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো। এছাড়া ডুমুরিয়ার ঘের মালিক শাহিন বন্দ হত্যা মামলায় আসামি আসলাম সানা ওরফে জলিল সানাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরী।
আলী শেখ হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৭ আসামি হলো- ছলেমান গাজী, হাফিজ খান, জামাল শেখ, শওকত মোল্লা, আকতার শেখ, নেয়ামত শেখ ও মিন্টু ওরফে মন্টু। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৫ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- ফিরোজ গাজী, কামাল, শরিফুল, আবদুল অদুদ ও মাশিকুল ইসলাম চৌধুরী জয়।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. ছায়েদুল হক শাহীন সমকালকে জানান, ২০০৪ সালের ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় তেরখাদা উপজেলার লস্করপুর গ্রামের রিকশা চালক আবদুল আলী শেখকে আসামিরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। পরে ৪ মে বিকালে ভৈরব নদ থেকে আবদুল আলী শেখের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার ভাই মিন্টু শেখ বাদী হয়ে ২০০৪ সালের ৭ মে তেরখাদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা ডিবির উপ-পরিতর্শক (এসআই) আবু তাহের ১২ জনকে আসামি করে ২০০৭ সালের ৫ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এদিকে ডুমুরিয়ার ঘের মালিক শাহিন বন্দ হত্যা মামলার আইনজীবীরা জানান, ডুমুরিয়ার বিলপাবলা এলাকায় শাহিন বন্দের মাছের ঘেরে কাজ করতেন জলিল সানা। তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে শাহিন জলিলকে কয়েকটি চড় মারে। এর প্রতিশোধ নিতে ২০১১ সালের ৬ জুন রাতে ত্রিশুল দিয়ে ঘুমন্ত শাহিনের বুকে আঘাত করে জলিল। এরপর স্থানীয় লোকজন শাহিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ডুমুরিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৬ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। তার রায় ঘোষণা হলো আজ।
- বিষয় :
- খুলনা
- হত্যা মামলা
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড