ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

১০ গ্রামের লোক খাইয়ে নিজের কুলখানি করলেন বন্দরের মোসলেম প্রধান

১০ গ্রামের লোক খাইয়ে নিজের কুলখানি করলেন বন্দরের মোসলেম প্রধান
×

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ০৯:৪৩

১০ গ্রামের কয়েক হাজার লোক খাইয়ে নিজের কুলখানি করেছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ৮৮ বছরের বৃদ্ধ মোসলেম প্রধান। গত শুক্রবার দিনব্যাপী উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের কামতাল এলাকায় নিজ বাড়িতে কুলখানির ওই ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। 

মোসলেম প্রধান নিজ হাতে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন করেন। এর আগে ১০ গ্রামের ১০ মসজিদের ইমামদের দিয়ে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এখন উপজেলাজুড়ে চলছে আলোচনা। খাবারের তালিকায় ছিল ভাত, সবজি, গরুর মাংস ও ডাল।

মুসলিম রীতিতে পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুর ৪ অথবা ৫ দিন পর মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। সেখানে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। মৃত্যুর ৪০ দিনে কুলখানি বা জেয়াফতের আয়োজন হয়ে থাকে। অতীতে দেশের কোথাও কোথাও মৃত্যুর আগে কুলখানি করার কথা শোনা যেত।

হাজি মো. মোসলেম প্রধানের বয়স প্রায় ৮৮ বছর হলেও তিনি সুস্থ-সবল আছেন। হেঁটে চলাফেরা করতে পারেন। নিজের ভাড়া দেওয়া বাড়ি তদারকি করেন। চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ের জনক তিনি। স্ত্রী বেঁচে আছেন। চার ছেলের সংসারে নাতি-নাতনিসহ বড় পরিবার তার। ছেলেমেয়েদের মধ্যে আগেই সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা করে লিখে দিয়েছেন। 

ছেলেরাও সচ্ছল, ব্যবসা-বাণিজ্য করেন। তার বড় ছেলে নবীর হোসেন বন্দরের ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান।

মোসলেম প্রধান বলেন, ইচ্ছা ছিল আল্লাহ যদি আমাকে অর্থশালী করেন, তাহলে মৃত্যুর আগেই প্রতিবেশী, নিজ গ্রাম এবং আশপাশের গ্রামবাসীসহ আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করে নিজের হাতে খাওয়াব। আল্লাহ আমার মনের ইচ্ছা পূরণ করেছেন।

কামতাল, মালিভিটা, দশদোনা, হালুয়াপাড়া, আড্ডা শ্যামপুর, মহজমপুর ও যোগীপাড়া চিড়ইপাড়াসহ ১০ গ্রামের নারী-পুরুষ এবং পার্শ্ববর্তী সোনারগাঁ উপজেলার আত্মীয়-স্বজনসহ কয়েক হাজার মানুষ দাওয়াতে অংশ নিয়েছেন। ১৫ দিন আগে থেকেই প্রত্যেকের ঘরে দাওয়াত পৌঁছে দেন মোসলেম প্রধানের চার ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুরু হয় রান্নার আয়োজন। শুক্রবার সকালে মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের খাওয়া-দাওয়া শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেলে।

আরও পড়ুন

×