ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বগুড়ায় ২০ পরিবারের ফেরারি জীবন

বগুড়ায় ২০ পরিবারের ফেরারি জীবন
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:১০

বাড়িতে গেলেই প্রতিপক্ষের হামলা এবং পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের ভয়ে ২০টি পরিবার গ্রামছাড়া হয়ে ফেরারি জীবন যাপন করছে। ওই পরিবারগুলো তিন এসএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছে। মাঠে পাকা ধান ঝরে পড়ছে। কাটতে গেলেই হামলার আতঙ্ক। এমন নানা অভিযোগ করেন ওই পরিবারের সদস্যরা। গত রোববার তারা বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন। এ ঘটনা ঘটেছে জেলার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের সোনাকানিয়া গ্রামে।

সোনাকানিয়া গ্রামের আব্দুল হালিম মাস্টারের সঙ্গে একই এলাকার শহীদুল ইসলামের ৮৫ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। জমিটি একবার হালিম মাস্টার, আবার কখনও শহীদুল ইসলাম দখল করেন। একাধিকবার এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। জমি অবৈধ দখল ও মারধরের অভিযোগ এনে গত সাত বছরে শহীদুল ইসলাম প্রতিপক্ষ হালিম মাস্টারের বিরুদ্ধে ৪৩টি মামলা করেন। এ মামলায় হালিম মাস্টার ছাড়াও তার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের আসামি করা হয়। হালিম মাস্টারও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা করেছেন। ১০ নভেম্বর দুপুরে ওই জমি নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে শহীদুল ইসলামের মা সবুরা বেওয়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাতেই মারা যান। সবুরা বেওয়ার মৃত্যুকে লাঠির আঘাতে হত্যা হিসেবে চালিয়ে দেন তার ছেলে শহীদুল ইসলাম। তিনি বাদী হয়ে পরেরদিন সোনাতলা থানায় হালিম মাস্টারসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অর্ধশত লোকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। 

অন্যদিকে শহীদুল ইসলাম তার লোকজনকে দিয়ে হালিম মাস্টারসহ তার প্রতিবেশী ও আত্মীয় এমন ২০টি পরিবারের বাড়িঘরে লুটপাট করে। শহীদুলের ভয়ে ২০টি পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। হালিম মাস্টারের আত্মীয় ওই গ্রামের আলতাফ আলী ও রওশন আলী নামে দুই ব্যক্তি তাদের জমির পাকা ধান কাটতে গেলে বেঁধে রেখে মামলার অজ্ঞাত আসামি বানিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এভাবে এ পর্যন্ত ১২ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ ও হামলার ভয়ে বগুড়া শহরের কলোনি এলাকায় আশ্রয় নেওয়া ওই গ্রামের সারোয়ার হোসেন শুক্রবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাকে শনিবার গ্রামের বাড়ি সোনাকানিয়ায় নেওয়া হলে সেখানে তাকে দাফন করতেও বাধা দেওয়া হয়। প্রতিপক্ষদের ভয়ে সারোয়ার হোসেনের দাফনে অংশ নিতে পারেননি তার আপন ভাই আবু তাহের। এসব বিষয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হলে পুলিশ কোনো ধরনের সহায়তা করছে না বলেও তাদের অভিযোগ।

হালিম মাস্টারের পরিবারের তরফ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার বোন হালিমা বেগমসহ উপস্থিত এলাকাবাসী এসব নানা অভিযোগ করেন। অভিযোগ সম্পর্কে শহীদুল ইসলাম বলেন, তার মাকে প্রতিপক্ষরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার বিষয়ে তিনি মামলা করেছেন।

সোনাতলা থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, মামলায় যারা জামিন নিয়েছেন তারা বাড়িতে বসবাস করবেন। কোনো সমস্যা হলে তারা আমাকে জানাবেন। আমি তাদের সহায়তা করব।

আরও পড়ুন

×