ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

মেহেরপুর ও লালমনিরহাট সীমান্ত

সাতজনকে পুশইনের চেষ্টা ঠেকাল বিজিবি

সাতজনকে পুশইনের চেষ্টা ঠেকাল বিজিবি
×

সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বিজিবি। ছবি: সমকাল

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০০:৪৮

মেহেরপুর ও লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের সাতজনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি। কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা বিল্লাল ও সুমিকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দিয়েছে বিজিবি। তবে সেখানে এখনও পাঁচজন আটকে আছে।

মেহেরপুরে গতকাল শুক্রবার ভোরে চারজনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। জানা গেছে, ভোরে শূন্যরেখার ওপারে চার ব্যক্তিকে দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। পরে বিজিবি ও সীমান্তের অধিবাসীদের ধাওয়া খেয়ে ভারতের তারকাঁটার কাছে চলে যায় তারা। এরপর তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তারা যেখানে বসে ছিল সেখানে কয়েকটি কাপড় পড়ে আছে। বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় লোকজন আশপাশে খোঁজ করে আর তাদের দেখতে পায়নি।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা খালপাড়া সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার ভোরে বিএসএফ চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। বিজিবি সতর্ক পাহারা দিচ্ছে।

পাটগ্রাম সীমান্তে তিনজনকে পুশইনের ব্যর্থ চেষ্টা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির তৎপরতায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার রাতে কালিরহাট সীমান্ত-সংলগ্ন ভারতের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার মিলরাপা সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা করা হয়।

তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি ও স্থানীয়দের সহায়তায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বাড়ি ফেরার অনুমতি পেলেন বিল্লাল ও সুমি দম্পতি

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তে শূন্যরেখায় চার দিন আটকে থাকার পর বুধরার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিল্লাল ও সুমি দম্পতি তাদের দুই শিশুসন্তানসহ বাড়ি ফেরার অনুমতি পেয়েছেন। ওই পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি তাদের গ্রহণ করে বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেয়।

বাড়ি ফেরার অনুমতি পাওয়া ছয়জন হলেন, ভালুকা উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বিল্লাল হোসেন, তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার, তাদের ৫ মাসের শিশুকন্যা সুমাইয়া ও ৪ বছরের শিশুকন্যা ফাতেমা এবং বকশিবাড়ি গ্রামের সজীব মিয়া ও হিমেল মিয়া।

বিরুনীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন সরকার বলেন, পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, ওই ছয়জন আপাতত নিজ বাড়িতে না এসে অন্য আত্মীয়ের বাড়িতে যাবেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে পরে বাড়িতে আসবেন।

ইউএনও মো. ফিরোজ হোসেন জানান, উল্লিখিত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের বুধবার শেষরাতে নিজ এলাকায় ফিরে আসার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি তিনি অবহিত রয়েছেন।

পাঁচ দিনের বেশি শূন্যরেখায় পাঁচজন

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় পাঁচ দিনেরও বেশি সময় ধরে আটকে আছে পাঁচ ব্যক্তি। আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে দুজন এবং ভন্দুরচর সীমান্তের ১০৬৫ নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে তিনজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। গত রোববার সকালে তাদের পুশইনের চেষ্টা করা হয়।

এ বছর রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, জামালপুর, সিলেট, যশোর, ঝিনাইদহ, নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।

এর আগে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে ২০২৫ সালে দুই হাজার ৩৫৬ জনকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে পুশইন করা হয়। 

(সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য)

আরও পড়ুন

×