ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষে সংর্ঘষ

ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষে সংর্ঘষ
×

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে -সমকাল

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৬:৩৪

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংর্ঘষে পুলিশসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এতে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা সভা পণ্ড হয়ে গেছে। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমানসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিষদের অফিস কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। 

জানা গেছে, সকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য সভায় উপস্থিত হওয়ার আগেই তার অনুসারী ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পক্ষের সমর্থকরা জড়ো হতে শুরু করে। এমপি উপজেলা পরিষদের উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ হামলা পাল্টা হামলা শুরু হয়। আধাঘণ্টা সংর্ঘষের পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। পরে আইনশৃঙ্খলা সভা শুরু হলে উভয় পক্ষে আবারও সংর্ঘষ বাধে। 

সংঘর্ষে পুলিশের এসআই নাজমুল হোসেন ছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান অনুসারী জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম রিপন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেন মনির, ছাত্রলীগ নেতা জয়, হাবিব, কাশেম, রিয়াদ, হাসান, সাহেদ সুজন, নাছির কাইয়ুম এবং এমপির অনুসারী পুতুল সরকার, আলাউদ্দিন, আল আমিন, রায়হান, মোহন মিজি, সৈকত, মিঠুন, নুর আলআমিন ও সাগরসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্র্রণে আনতে পুলিশ এক পর্যায়ে ৬ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে  ইউএনও সভা স্থগিত করে দেন। 

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রকিব জানান, উভয় পক্ষকে শান্ত করতে পুলিশ প্রথম থেকেই চেষ্টা করেছে। এক পর্যায়ে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। সংবাদ পেয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও ডিবি পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির কারণে মাসিক সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা সভা স্থগিত করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান বলেন, সংঘর্ষের জন্য এমপিই দায়ী। উত্তেজিত জনতা তার উপস্থিতি মেনে নিতে পারেনি।   

অন্যদিকে সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, আমি আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভায় উপস্থিত হওয়ার পর উদ্দেশ্যমূলক ভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকজন সেখানে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে। 

আরও পড়ুন

×