ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আগেও দুটি অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ে ছিলেন সেই পুলিশ সদস্যরা

আগেও দুটি অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ে ছিলেন সেই পুলিশ সদস্যরা
×

 আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০৮:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জে গণপিটুনির শিকার হওয়া ডিবি পুলিশের সেই তিন সদস্যসহ চারজনকে অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে রূপগঞ্জ থানার পুলিশ। তাদেরসহ মোট ৬ জনকে আসামি করে গতকাল শুক্রবার সকালে মামলাটি করেন অপহরণ চেষ্টার শিকার অমিত হাসান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পুলিশের এসআই মামুন মাতুব্বর, এএসআই  আমান উল্লাহ, কনস্টেবল কবির ও আকাশ আহাম্মেদ। তারা সবাই ঢাকা ডিবি দক্ষিণে কর্মরত। গত বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জের গাউছিয়া এবং আড়াইহাজারের শান্তির বাজারে তাদের তিনজন দুই দফা গণপিটুনির শিকার হন। 
মামলার অন্য আসামিরা হলেন– প্রাইভেটকারের চালক আবু বক্কর সিদ্দিক ও সেলিম মিয়া। ভুক্তভোগী অমিত হাসান মিয়াজ (৩০) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কর্মরত। সোনারগাঁও উপজেলার হাবিয়া বৈদ্যপাড়া এলাকায় তাঁর বাড়ি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অমিত হাসান মিয়াজ তাঁর এক আত্মীয়কে নিয়ে সোনারগাঁওয়ের বারদী পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রূপগঞ্জের ভূলতা গাউছিয়া এলাকায় আসেন। সেখানে পাবলিক টয়লেটের সামনে অবস্থান করার সময় সিআইডি পুলিশের পরিচয় দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের কাছে আসেন। পরে দেহ তল্লাশির কথা বলে অমিতকে টয়লেটের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কোনো কিছু না পেয়ে তাঁকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা তাঁকে মারধর করেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং অপহরণকারী সন্দেহে এসআই মামুন, এএসআই আমানউল্লাহ, কনস্টেবল কবিরকে  গণপিটুনি দেয়। এ সময় প্রাইভেটকারটি নিয়ে পালিয়ে যায় আরও ৩ জন। 
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পরে উত্তেজিত জনতা আটকদের একটি পিকআপে করে আড়াইহাজারের শান্তিনগর বাজারে নিয়ে আসে। সেখানেও তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ গিয়ে আহত তিন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। রাতে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত কনস্টেবল আকাশ আহাম্মদকে আটক করে। গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ সদস্য এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা অবহিত না করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে এ ঘটনা ঘটান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনার সঠিক তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ জুন একই চক্র জয়নাল নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে জয়নালের স্ত্রী সামিরুন নাহার ও স্বজন রুবিয়া বেগম আড়াই লাখ টাকা দিয়ে তাঁকে মুক্ত করেন। একইভাবে জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁর মা জাহানারা বেগম আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ করে তাঁকে ছাড়িয়ে আনেন।
মামলার এজাহারে বাদী অমিত হাসান মিয়াজ অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অপহরণ করত এবং পরে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে ছেড়ে দিত।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। ঘটনাটির প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×