সংস্কৃতি
দুই কিংবদন্তির কণ্ঠে চিঠির জীবনগাথা
রাজধানীর বেইলি রোডের বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় থিয়েটার-এর প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হয় ‘লাভ লেটার্স’। এ সময় মঞ্চে দেখা যায় বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র রামেন্দু মজুমদার ও ফেরদৌসী মজুমদারকে- দ্রােহী তারা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
মঞ্চে পাশাপাশি বসে আছেন বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র রামেন্দু মজুমদার ও ফেরদৌসী মজুমদার। নেই নাটকীয় দৃশ্যান্তর কিংবা বাহুল্যপূর্ণ অভিনয়ভঙ্গি। অথচ তাদের কণ্ঠ, দৃষ্টি আর শব্দের ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে দুটো জীবনের গল্প। চিঠির পর চিঠি, স্মৃতির পর স্মৃতি, অনুভূতির পর অনুভূতি পেরিয়ে দর্শক প্রবেশ করেন দুই মানুষের দীর্ঘ জীবনযাপনের অন্তরঙ্গ অধ্যায়ে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে থিয়েটার-এর প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হয় ‘লাভ লেটার্স’। নাটকটির মূল শক্তি যেমন এর নির্মাণশৈলী, তেমনি এর প্রাণ হয়ে ওঠেন দুই বরেণ্য অভিনয়শিল্পী।
অনন্ত শাহেদ চৌধুরী চরিত্রে রামেন্দু মজুমদার ছিলেন সংযত অথচ গভীর। জীবনের নানা পর্যায়ে চরিত্রটির মানসিক পরিবর্তন, দায়িত্ববোধ, দ্বিধা ও নীরব ভালোবাসাকে তিনি প্রকাশ করেছেন কেবল কণ্ঠের ওঠানামা এবং অনুভবের সূক্ষ্মতায়। অন্যদিকে মাইশা ইসলাম চরিত্রে ফেরদৌসী মজুমদার ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত, আবেগময় ও প্রাণবন্ত।
মূলত দুই বিপরীত মেরুর চিন্তার মানুষের শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত আদান-প্রদান করা চিঠিগুলো ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে নাটকের কাহিনি। সময়ের প্রবাহে তাদের সম্পর্কের রূপ বদলেছে, জীবন বদলেছে, কিন্তু চিঠিগুলোর মধ্যে জমে থাকা অনুভূতি হারিয়ে যায়নি কখনও। সেই অনুভূতির ধারাবাহিকতাই নাটকের মূল বয়ান।
চিঠির ফাঁকে ফাঁকে বেজে ওঠা ঘণ্টাধ্বনি যেন সময়ের অদৃশ্য পদচারণাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দর্শক তখন মাইশা ও অনন্তের জীবনের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অতিক্রম করেন– কলেজ জীবন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, কর্মজীবন, সুখ-দুঃখে মিশ্রিত মধ্যবয়সের বাস্তবতা এবং সবশেষে আত্ম-অনুধাবনের গভীর স্তর।
তবে ‘লাভ লেটার্স’-এর গল্প কেবল মঞ্চের গল্প নয়। এর পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন গল্প। ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর প্রয়াত অভিনেতা আলী যাকেরের বাসভবনে অধ্যাপক আবদুস সেলিম প্রথম নাটকটির বাংলা রূপান্তর পাঠ করেন। সে সময় ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন আলী যাকের। নাট্যকর্মীদের মনে হয়েছিল এমন একটি প্রযোজনা করা যায় কিনা, যেখানে কম শারীরিক পরিশ্রমে আবারও মঞ্চে দেখা যাবে তাঁকে। তাঁর বিপরীতে থাকবেন দীর্ঘদিনের সহশিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার। সেই ভাবনা থেকেই নির্বাচন করা হয় এই নাটক। কিন্তু অসুস্থতার কারণে বারবার থমকে যায় মহড়ার আয়োজন। একসময় আলী যাকের নিজেই রামেন্দু মজুমদারকে বলেছিলেন, ‘আপনারা শুরু করুন; আই উইল জয়েন।’
সেই অপেক্ষার অবসান হয়নি। ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গন হারায় তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতাকে।
- বিষয় :
- সংস্কৃতি
