ঢলে ভেঙে গেছে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রাম
নালিতাবাড়ী উপজেলার বাতকুচি এলাকায় পাহাড়ি ঢলে ২০২২ সালে ভেঙে যাওয়া সড়ক সমকাল
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০৮:১২ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ | ০৮:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে সড়ক। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গ্রাম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন বাতকুচি গ্রামবাসী। গ্রামটি নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নে।
জানা গেছে, ভারত থেকে নেমে আসা খরস্রোতা চেল্লাখালী নদীর অর্ধেক অংশই পাহাড়ি এলাকার মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে। পাহাড়ি ঝর্ণার পানিই নদীটির জীবন। তবে পাহাড় বেয়ে নদীতে নামা বৃষ্টির পানি এখন হয়ে উঠেছে যন্ত্রণার কারণ। পাহাড়ি ঢলে পাকা সড়ক ভেঙে পুরো বাতকুচি গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ২০২২ সালে সড়কটির প্রায় ৪০ ফুট অংশ ভেঙে যায়। এরপর থেকে আর মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার বাতকুচি গ্রামটি পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মাঝখানে। ইউনিয়ন পরিষদটি সর্ব-পশ্চিমে হওয়ায় গ্রামটি দিয়েই পুরো ইউনিয়নবাসী যাতায়াত করতেন। তবে এখন আর সেটি সম্ভব হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, গ্রামটির পূর্বপাশে বারোমারী বাজার থেকেও বাতকুচি গ্রামটি এখন বিচ্ছিন্ন। বাজার এবং গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা চেল্লাখালী নদীতে দীর্ঘদিন ধরে সেতু তৈরির স্বপ্ন দেখা মানুষগুলো এখন দিশেহারা।
সাপ্তাহিক হাট-বাজার করা থেকে শুরু করে বাজারটিতে নিজেদের উৎপাদিত ধান কিংবা বিভিন্ন সবজিও বিক্রি করতে পারছে না বাতকুচি গ্রামবাসী। এক সময় ছিল শুধু নদী পারাপারের সমস্যা। এখন তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাহাড়ি ঢলে ভেঙে যাওয়া সড়ক। পূর্ব দিকের ইউনিয়নবাসীকেও প্রায় ৪ কিলোমিটার ঘুরে পরিষদে যেতে হয়। অথচ আগে ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নদীতে একটু পানি বেশি হলেই প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী নদীর ওপারে পলাশীকুড়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, পলাশীকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোসেন আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বেগম রৌশন আরা একাডেমিতে যেতে পারে না। আর পাহাড়ি ঢল নামলে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে নন্নী হয়ে কিংবা বুরুঙ্গা এলাকার সীমান্ত সড়ক দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলে এলেও নতুন সরকার আসায় নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন এলাকাবাসীরা। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় কৃষি নির্ভর গ্রামটিতে বসবাসকারী মানুষের আশা, হয়তো ঠিক হয়ে যাবে সড়কটি, দূর হবে দুর্ভোগ।
এলাকাবাসী জানান, আগে এই সড়ক এমন ছিল না। অসচেতনতাভাবে পানির গতিপথ পাল্টে দেওয়ায় এমনটা ঘটেছে। আগে ছোট কালভার্ট দিয়ে পানি গেলেও বেশ কয়েক বছর আগে পাহাড়ি ঢলে কালভার্ট ভেঙে যায়। পরে সড়কটি আরও বড় আকারে ভেঙে এমন অবস্থা হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে তিনটি গ্রামের মানুষ বারোমারী বাজারে যাতায়াত করেন। তবে ঢলে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় এখন সীমান্ত সড়ক দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। তাও আবার বন্যহাতির জন্য সন্ধ্যার পর আর ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দা শামীম হক বলেন, ২০২২ সালে পাহাড়ি ঢলে রাস্তাটি ভেঙে গেছে। এরপর থেকে দুর্ভোগে আছেন তারা। বাড়ি থেকে বের হওয়া কিংবা ফসল ঘরে তোলাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি দ্রুত ঠিক না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এলাকার বাসিন্দা সুরুজ্জামান সুরুজ জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী এমন সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। কৃষি নির্ভর এলাকা হওয়ায় ধান বা সবজি আবাদ করেও বাড়িতে কিংবা বাজারে নিতে পারেন না। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে এবারের বর্ষায় আরও খারাপ আকার ধারণ করতে পারে।
সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন টিমের সভাপতি রোকুনুজ্জামান সেলিমের ভাষ্য, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় আশপাশের তিন-চার গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের যাওয়ার মাধ্যম হলেও এখন সেটি আর ব্যবহার করা হচ্ছে না। পাকা রাস্তাটি দ্রুতই সংস্কার করা দরকার।
জানতে চাইলে এলজিইডির নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী অন্তুবল বলেন, রাস্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
- বিষয় :
- সড়ক
- নালিতাবাড়ী
