পদ্মার বালুমহাল
সপ্তাহ ব্যবধানে দুই খুন, ফের গোলাগুলি
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
পদ্মা নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ডের পর আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে পদ্মা নদীতে এই গোলাগুলির শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা নদী এলাকায় যান। বালুমহাল এলাকায় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়ায় বলে জানতে পেরেছেন।
জানা গেছে, বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় কাকন বাহিনী ও বেলাল বাহিনীর মধ্যে এই বিরোধ চলছে। তাদের মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত মঙ্গলবার সাহাবুল হোসেন (৪৫) এবং তার ঠিক এক সপ্তাহ আগে, চলতি মাসের ৯ তারিখ আজিজুল হক নামের অপর এক ব্যক্তি নিহত হন। নিহত দুজনই কাকন বাহিনীর সদস্য ছিলেন। পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোরের লালপুর ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর রায়টা এলাকায় এর আগেও একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ জানায়, তিন জেলার সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর এই বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাকন ও বেলাল বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
নদীতীরের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে; তার ওপর সপ্তাহের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার রাতে আচমকা গুলির শব্দে এলাকার লোকজন ভয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। জহুরা বেগম নামের এক গৃহবধূ বলেন, দিনের বেলায় যেমন-তেমন, রাত হলেই আতঙ্ক ভর করে। কখন গুলি চলে, কার প্রাণ যায়, এই আশঙ্কায় দিন কাটে। বৃহস্পতিবার রাতে গুলির শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়।
লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, গোলাগুলির খবর পাওয়ার পর থেকেই পদ্মা নদীতে নৌপুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের দমনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
- বিষয় :
- খুন
