ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অধিকার নিয়ে মিয়ানমারে ফিরতে চান রোহিঙ্গারা

অধিকার নিয়ে মিয়ানমারে ফিরতে চান রোহিঙ্গারা
×

ক্যাম্পের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা রোহিঙ্গা বদি আলম, মো. করিম ও হোছেন আহমদ (বায়ে থেকে) -সমকাল

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৫৬

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার শুনানির তৃতীয় ও শেষ দিনে বৃহস্পতিবার উদগ্রীব ছিলেন কক্সবাজারের ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা। তাদের নজর ছিল নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দিকে। নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় তারা। তাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতার শাস্তি নিশ্চিত চান তারা। অধিকার নিয়ে ফিরতে চান নিজ দেশে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, টেকনাফে সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকায় ক্যাম্পের বেশিরভাগ রোহিঙ্গা হেগের খবর জানতে মোবাইল ফোন ও রেডিও নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। 

মিয়ানমারের মংডু থেকে পালিয়ে আসা মোহাম্মদ করিম (৭০) হতাশা নিয়ে বসেছিলেন একটি চায়ের দোকানে। তিনি বর্তমানে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই ব্লকের বাসিন্দা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে থামবে তা আমরা জানি না। দিন দিন রোহিঙ্গার সংখ্যা বাড়ছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক চিন্তায় রয়েছি।

এ সময় বদি আলম (৬৮) নামে আরেক রোহিঙ্গা বলেন, মিয়ানমারে দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি যখন গৃহবন্দি ছিলেন তখন রোহিঙ্গারা 'যুদ্ধে'র মাধ্যমে তাকে রক্ষা করেন। বের হওয়ার পর থেকে তিনি রোহিঙ্গাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তাছাড়া হেগের আদালতেও সু চি মিথ্যা বলেছেন।

বদি বলেন, আমরা কেউ শরণার্থী হয়ে থাকতে চাই না। নিজ দেশে ফিরে যেতে প্রস্তুত। শুধু সে দেশে অন্য জনগোষ্ঠী যেভাবে জীবনযাপন করে, তা চাই। এটি আমাদের অধিকার, এ অধিকার নিয়ে ফিরে যেতে চাই।

মংডু শহরের বলিবাজার এলাকা থেকে ৪ সন্তান নিয়ে পালিয়ে এসেছেন সাবেকুন নাহার (৩০)। আশ্রয় নিয়েছেন টেকনাফের লেদা ক্যাম্পে। দুই বছর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হত্যা করে তার স্বামীকে। সন্তানদের নিয়ে আগামী দিনগুলো কীভাবে কাটবে জানেন না সাবেকুন।

তার মতোই মিয়ানমারের দক্ষিণ ধুনছে এলাকা থেকে পালিয়ে এসেছেন কুলসুমা বেগম। তার কোলে দেড় বছরের এক শিশু। তিনি জানান, তার রয়েছে ৮ সন্তান। ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তায় আছেন। তিন দিন ধরে রোজাসহ বিশেষ প্রার্থনা করছেন যাতে নিজেদের দাবিগুলো নিয়ে দেশে ফিরে যেতে পারেন।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার ঘুমধুম শূন্যরেখা রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ বলেন, রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। বৃহস্পতিবার ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছায়। এ সময় নাগরিকত্ব ছাড়া অন্যসব দাবি মেনে নিলে তারা ফিরবে কি-না এমন প্রশ্নে রোহিঙ্গারা জানায়, অধিকার ও নাগরিকত্বে নিশ্চয়তা পেলেই কেবল ফিরতে রাজি তারা।

আরও পড়ুন

×