ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

ভক্তদের কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা

ভক্তদের কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা
×
×

আরতি ও অঞ্জলি, শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে এবারের দুর্গোৎসবের। ছবি: সমকাল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২১ | ০৯:৩৩ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২১ | ০৯:৩৩

কেউ কারও গালে, কেউবা কারও কপালে সিঁদুর ছুঁয়ে দিচ্ছেন। কেউ আবার আলতো ছোঁয়ায় প্রিয়জনকে রাঙাচ্ছেন লাল টুকটুকে সিঁদুরে। শুক্রবার বিকেলে সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে এভাবেই সিঁদুর খেলায় মাতেন হিন্দু ধর্মের নারীরা। তবে বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ-উৎসবে রাশ টেনে ভক্তদের কাঁদিয়ে বিদায় নেন দেবী দুর্গা।

শুক্রবারের বিকেলটা ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একই সঙ্গে আনন্দের ও বেদনার। শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন শুক্রবার  ছিল মহাদশমী। এদিন বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় বিসর্জন পূজা। এ সময় ভক্তরা দই ও খই ভোগ দেন। পরে আরতি ও অঞ্জলি, শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে এবারের দুর্গোৎসবের। বিজয়া দশমীতে দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল কামনা করা হয়।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে নগরীর মুন্নুজান স্কুলের সামনের ঘাট দিয়ে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। দুপুর থেকেই মুন্নুজান স্কুল এলাকায় প্রতিমা নিয়ে রাস্তায় সারি সারি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতার জন্য রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দলও উপস্থিত ছিল। এ সময় সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন উপস্থিত থেকে প্রতিমা বিসর্জন তদারকি করেন।

বগুড়া ব্যুরো জানায়, শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপের প্রতিমা করতোয়া নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। তার আগে দুপুরে নাচ, গান, সিঁদুর খেলা, বিজয়ার শোভাযাত্রা হয়। শহরের মালতীনগর, জলেশ্বরীতলা, চেলোপাড়া, বেলতলা, উত্তরচেলোপাড়া, সেউজগাড়ী, দত্তবাড়ি, ফুলবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও মণ্ডপের প্রতিমাগুলো করতোয়া নদীর বিভিন্ন ঘাটে বিসর্জন দেওয়া হয়। এদিকে, জুমার নামাজের আগে থেকে বগুড়া শহরে পুলিশ সদস্যদের কঠোর অবস্থান দেখা গেছে।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, নগরীর সদর রোডের জগন্নাথ দেবের মন্দিরে শুক্রবার বিকেল ৫টায় গিয়ে দেখা যায় হিন্দু ধর্মের নারীরা নাচগানের সঙ্গে মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়। অনেক ভক্তকে দেখা গেছে ধর্মীয় রীতিতে পান-মিষ্টি দিয়ে বরণ করে বিদায় জানাচ্ছেন দেবী দুর্গাকে। মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল দাস জানান, সন্ধ্যা ৬টার থেকে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়।

কক্সবাজার অফিস জানায়, প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার সৈকতে বসেছিল লাখো মানুষের মিলনমেলা। সব সম্প্র্রদায়ের বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে সৈকতের বেলাভূমি পরিণত হয় সর্বজনীন উৎসবের মাঠে। তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের আকাশ থেকে সাম্প্রদায়িকতার কালো মেঘ দূর করার। দুপুর থেকে কপবাজার সমুদ্রসৈকতে ভিড় বাড়তে শুরু করে। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিমাসহ পূজার্থী ও ভক্তরা সমবেত হন এখানে। কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক সংগঠক বিশ্বজিৎ পাল জানান, কক্সবাজারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা শেষ হয়েছে।

আরও পড়ুন

×