মাদারীপুরে হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
রায় ঘোষণার দিন চার আসামিকে আদালতে তোলা হয়।
মাদারীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২২ | ০৭:৫৯ | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২২ | ০৭:৫৯
মাদারীপুরে আলোচিত রাধা রানী বৈদ্য হত্যা মামলায় পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন অতিরিক্তি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস।
সোমবার বিকেল ৩টার দিকে আদালত এ রায় ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির মধ্যে চার জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এক আসামি পলাতক রয়েছেন। ফাঁসির দণ্ড ছাড়াও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন- রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম এলাকার অশোক বৈদ্য, নরেন বৈরাগী, কালু বিশ্বাস, তরনী বৈদ্য ও বিজয় বেপারী। আসামি বিজয় বেপারী পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আমগ্রাম এলাকার মৃত চৈতন্য বৈদ্যর ছেলে অশোক বৈদ্য, তরনী বৈদ্য, গৌরঙ্গ বৈদ্যর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার গুরুপদ বৈদ্যের ছেলে বিষ্ণু পদ বৈদ্যের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ২০০২ সালের ১৪ অক্টোবর পূজার অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে গুরুপদ বৈদ্যর স্ত্রী রাধা রানী বৈদ্যকে অপহরণ করে অশোক বৈদ্য, তরনী বৈদ্য, গৌরঙ্গ বৈদ্য, পদ বিশ্বাসের ছেলে কালু বিশ্বাস, নরেন বৈরাগী ও বিজয় বেপারী। এ ঘটনায় অপহরণের পরের দিন রাজৈর থানায় একটি মামলা করেন নিহতের ছেলে বিষ্ণু পদ বৈদ্য। মামলা দায়েরের ১০ দিন পর থানা পুলিশ পার্শ্ববর্তী পাখুল্লার বিলের মধ্যে কচুরিপানার নিচ থেকে রাধা রানীর দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোখলেসুর রহমান ঘটনার তদন্ত শেষে ছয় জনকে অভিযুক্ত করে ২০০৩ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সোমবার আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
মাদারীপুর জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. সিদ্দিকুর রহমান সিং বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমগ্রাম এলাকার গুরুপদ বৈদ্যের স্ত্রী রাধা রানী বৈদ্যকে পাখুল্লার বিলে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ গুম করে রাখে আসামিরা। হত্যাকাণ্ড ঘটার ১১দিন পর ওই বিল থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মরদেহ উদ্ধার করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় আদালতে ১১ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। অবশেষে অতিরিক্তি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এই রায় প্রদান করেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
