শিশু তুহিন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
শিশু তুহিন-ফাইল ছবি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২০ | ০৪:১৪ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২০ | ০৪:১৫
সুনামগঞ্জে নৃশংস কায়দায় পাঁচ বছরের শিশু তুহিন মিয়া হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
সোমাবার আদালতে তুহিনের মা মনিরা বেগমসহ পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর আগে ৭ জানুয়ারি আদালতে তুহিনের বাবা ও তিন চাচার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়।
একই মামলায় তুহিনের চাচাতো ভাই সাহারুল ইসলাম ওরফে শাহরিয়ারের বিচার হচ্ছে শিশু আদালতে।
সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ মো. ওয়াহিদুজ্জাদান শিকদারের আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী তুহিনের মা মনিরা বেগম, কেজাউড়া গ্রামের বাসিন্দা অভিজিৎ তালুকদার, শাহজাহান মিয়া, মওলানা নুর উদ্দিন ও হারুন মিয়া। অন্য আসামিরা মঙ্গলবার সাক্ষ্য দেবেন।
আদালতে তুহিনের মা মনিরা বেগম বলেন, ১৩ অক্টোবর রাতে তুহিন তার বাবা আবদুল বাছিরের সঙ্গে একই খাটে ঘুমিয়েছিল। তিনি ছিলেন পাশের কক্ষে। গভীর রাতে তুহিনের চাচাতো বোন তাদের ঘুম থেকে ডেকে তুলে জানায়, ঘরের দরজা খোলা। তখন তিনি দেখেন তুহিনের বাবার পাশে তুহিন নেই। পরে সকালে জানতে পারেন তুহিনকে কে বা কারা হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে।
গত ১৪ অক্টোবর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে এই নৃশংস হত্যকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় তুহিনের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। তুহিনের গলা, দুই কান ও যৌনাঙ্গ কাটা ছিল। পেটে বিদ্ধ ছিল দুটি ছুরি।
এ ঘটনায় তুহিনের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। এই মামলায় পুলিশ তুহিনের বাবা আবদুল বাছির (৪০), চাচা নাসির উদ্দিন (৩৫), আবদুল মছব্বির (৪৫) ও জমসেদ আলী (৬০) এবং চাচাতো ভাই সাহারুল ইসলামকে (১৭) গ্রপ্তার করে। এর মধ্যে নাসির ও সাহারুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
তুহিন হত্যা মামলায় পুলিশ গত ৩০ ডিসেম্বর এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এরপর আদালতে অভিযোগ গঠন হয় ৭ জানুয়ারি।
সোমবার আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি শামসুন্নাহার বেগম শাহানা পিপি। আসামিপক্ষে সাক্ষীদের জেরা করেন আইনজীবী বজলুল মজিদ চৌধুরী।
- বিষয় :
- সুনামগঞ্জ
- তুহিন হত্যা মামলা
- সাক্ষ্যগ্রহণ
