ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

লাওসে স্বর্ণের খোঁজে গুহায় গিয়ে এক সপ্তাহ ধরে আটকা সাতজন

লাওসে স্বর্ণের খোঁজে গুহায় গিয়ে এক সপ্তাহ ধরে আটকা সাতজন
×

গুহায় প্রবেশের আগে হেলমেট পরছেন এক উদ্ধারকারী। সোমবার লাওসে। ছবি: এমটিকে কমান্ড সেন্টার

সিএনএন

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ১৭:৩৯

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসের একটি গুহায় এক সপ্তাহ ধরে আটকে আছেন সাতজন। তারা সবাই সাইসোম্বুন প্রদেশের একটি গ্রামের বাসিন্দা। গত বুধবার স্বর্ণের সন্ধানে গুহায় ঢুকেছিলেন।

বর্তমানে গুহাটির বের হওয়ার পথ বন্যার পানিতে বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবুরিরা সরু সুড়ঙ্গ পথগুলোর মধ্য দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, গত বুধবার ওই সাতজন গুহায় ঢোকার পর হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দেয়। এতে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

লাওসের প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের একটি গুহায় ২০১৮ সালে আটকা পড়েছিল কিশোর ফুটবল দল। সে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দুজন থাই ডুবুরি সোমবার লাওসের উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, গ্রামবাসীরা গুহার অনেক গভীরে আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

উদ্ধার অভিযানের সমন্বয়কারী দল ‘মেত্তা থাম কালাসিন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’ জানিয়েছে, আটকে পড়া ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারীদের ৩৪০ মিটার বা ১ হাজার ১১৫ ফুট দীর্ঘ সুড়ঙ্গ পথ পাড়ি দিতে হবে।

অভিযানে বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারীরা। সোমবার লাওসের সাইসোম্বুন প্রদেশে। ছবি: এমটিকে কমান্ড সেন্টার

কমান্ড সেন্টারের পক্ষ থেকে ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে, সুড়ঙ্গটির কিছু অংশ মাত্র ৬০ সেন্টিমিটার বা ২৩ ইঞ্চি চওড়া। ফলে আটকে পড়া দলটির কাছাকাছি পৌঁছাতে উদ্ধারকারীদের হামাগুড়ি দিয়ে এগোতে হবে। প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীদের গুহার নিচের অংশে যাওয়ার জন্য পাথরের ফাঁক দিয়ে বিশেষ কেবল বা তার টেনে দেওয়া হয়েছে।

কমান্ড সেন্টার আরও জানিয়েছে, এই সংকীর্ণ গুহার ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা ও কোনো বিষাক্ত গ্যাস আছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য হেলমেট, ব্রিদিং মাস্ক (শ্বাসপ্রশ্বাসের মুখোশ) এবং গ্যাস মনিটর ব্যবহার করা হচ্ছে।

গুহার ভেতরে ধারণ করা দৃশ্য ফেসবুকে পোস্ট করেছেন এক থাই উদ্ধারকারী। এতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা পানিতে নিমজ্জিত অন্ধকার গুহার ধাপগুলোর মধ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। উদ্ধারকাজ সহজ করতে পাম্পের সাহায্যে পানি বাইরে বের করা হচ্ছে।

গুহাটি সাইসোম্বুন প্রদেশের লং তিয়াং-এর কাছাকাছি একটি পাহাড়ি এলাকায়। এই এলাকাটি বিস্তীর্ণ উপত্যকা ও সমৃদ্ধ খনিজের জন্য পরিচিত। এপির প্রতিবেদনে ‘লাওস রেসকিউ ভলান্টিয়ার ফর পিপল’-এর প্রধান বুনখাম লুয়াংলাথের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বন্যায় গুহার মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই আটকে পড়া দলের এক সদস্য বাইরে আসেন। তিনিই পরে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

লুয়াংলাথ আরও বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও স্থানীয়রা প্রায়ই স্বর্ণের খোঁজে এই গুহায় যাতায়াত করেন।

আরও পড়ুন

×