ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাখালের চাকরিতে হুমড়ি খেয়ে আবেদন, আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও

রাখালের চাকরিতে হুমড়ি খেয়ে আবেদন, আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও
×

চীনের গানসু প্রদেশে মঙ্গোলিয়া সীমান্তের কাছাকাছি দুর্গম তৃণভূমিতে প্রায় ৩ হাজার ভেড়া দেখাশোনার জন্য লোক খুঁজছিলেন খামার মালিক জুও শিয়াওইয়ং। ছবি: রয়টার্স

রয়টার্স

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ | ১৬:৩৮

চীনের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাখালের চাকরির বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশটির শ্রমবাজারের বাস্তব চিত্র নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মাত্র দুটি পদের জন্য ৭০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় পাস তরুণ, কারখানার শ্রমিক, এমনকি বড় শহরের করপোরেট চাকরিজীবীরাও।

চীনের গানসু প্রদেশে মঙ্গোলিয়া সীমান্তের কাছাকাছি দুর্গম তৃণভূমিতে প্রায় ৩ হাজার ভেড়া দেখাশোনার জন্য লোক খুঁজছিলেন খামার মালিক জুও শিয়াওইয়ং। গত এপ্রিলের শেষ দিকে দেওয়া সেই চাকরির বিজ্ঞাপন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে ভাইরাল হয়ে যায়। পোস্টটি প্রায় ৫ কোটি ৯০ লাখ বার দেখা হয় এবং ২১ হাজারের বেশি আলোচনা তৈরি হয়।

জুও শিয়াওইয়ং বলেন, এত সাড়া পাবেন তিনি কল্পনাও করেননি। আবেদনকারীদের অনেকেই সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করেছেন। কেউ ঋণের চাপে আছেন, কেউ দীর্ঘ সময়ের কঠোর কাজ ও অফিস রাজনীতিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

চাকরিটির শর্ত ছিল কঠিন। গ্রীষ্মে ২ হাজার হেক্টর চারণভূমিতে ৩ হাজার ভেড়া চরানো এবং শীতে তীব্র ঠান্ডার মধ্যে পশুদের খাবার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হবে। সেখানে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়। এই কাজের জন্য প্রত্যেককে মাসে ৮ হাজার ইউয়ান বেতন দেওয়ার প্রস্তাব ছিল, যা চীনের বেসরকারি খাতের গড় শহুরে আয়ের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি থাকার জায়গা ও খাবারের ব্যবস্থাও ছিল।

চীনের বর্তমান শ্রমবাজার নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে আসছে এবং চাকরির চাপ বাড়ছে। অনেক কর্মী ‘৯৯৬’ সংস্কৃতির অভিযোগ করছেন-অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করতে হয়।

আবেদনকারীদের প্রায় অর্ধেকই ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া। চীনে ‘কার্স অব ৩৫’ নামে পরিচিত একটি বাস্তবতা রয়েছে, যেখানে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী কর্মীদের অনেক প্রতিষ্ঠান চাকরিতে নিতে চায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এখন শুধু প্রযুক্তিখাত নয়, পুরো চাকরিবাজারেই ছড়িয়ে পড়ছে।

শেষ পর্যন্ত জুও শিয়াওইয়ং চারজনকে নিয়োগ দেন-দুই দম্পতিকে। তারা সবাই আগে খামারে কাজ করেছেন এবং ১৯৮০-এর দশকে জন্ম নেওয়া। তবে তিনি জানান, একা বা শহুরে তরুণদের এই কাজে নেওয়ার বিষয়ে তিনি আগ্রহী নন।

আরও পড়ুন

×