ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহেশখালীর সংরক্ষিত বন রক্ষায় সড়ক নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ

কাজ বন্ধ করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের চিঠি 

মহেশখালীর সংরক্ষিত বন রক্ষায় সড়ক নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ
×

কক্সবাজারের মহেশখালীর সংরক্ষিত পাহাড়ি বনের মধ্য দিয়ে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছে এলজিইডি। ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ২২:৩৯ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ২২:৪৭

সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলজিইডির সড়ক নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। মহেশখালীর ১২ নম্বর পাহাড় মৌজার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে জে.এম. ঘাট থেকে কালারমারছড়া পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের অধীন কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ১২ নম্বর পাহাড় মৌজা বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি বনসমৃদ্ধ দ্বীপের একটি সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বন। ১৯৫৪ সালে গেজেটের মাধ্যমে ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর ভূমি ১০০ বছরের জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ১৯৫৭ সালে বন আইন, ১৯২৭-এর ২০ ধারা অনুযায়ী এলাকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ওই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে পাকা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬-এর ধারা ৭(১) এবং জাতীয় বননীতি, ২০২৫ অনুযায়ী সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, মন্ত্রিপরিষদের সম্মতি এবং সরকারপ্রধানের অনুমোদন ছাড়া সংরক্ষিত বনভূমি বনবহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা যায় না। তাই সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বনভূমির ভেতর দিয়ে সড়ক বা অন্য অবকাঠামো নির্মাণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে বৃক্ষ নিধন, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, প্রাণীদের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হওয়াসহ পুরো বনজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব বিবেচনায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে মহেশখালীর জে.এম. ঘাট থেকে কালারমারছড়া পর্যন্ত সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে এলজিইডির সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই দৈনিক সমকালে 'বনের বুক চিরে সড়ক, ঝুঁকিতে জীববৈচিত্র্য' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া মধুশিয়া বন ও মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগে বন ও বন্যপ্রাণীর সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

×