ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
×

সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ২০:৩০ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ২০:৩২

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা এটিকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।’ 

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক দিকনির্দেশনামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং জেলা প্রশাসকরা। কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েই এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোরবানির চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে চামড়া শিল্পের বিকাশ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং এতিমখানা, মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু সামান্য অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে বাকি দুই জুমায় দেশের সব মসজিদের খতিব ও ইমামদের খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর বিষয়ে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইনশাআল্লাহ, এ বছর একটি চামড়াও নষ্ট হবে না এবং দেশের এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

সভায় বিভাগীয় কমিশনারদের বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

সিটি করপোরেশন প্রশাসকদের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রমও সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

সভায় জানানো হয়, কাঁচা চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে দেশব্যাপী মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চামড়া সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হবে বলেও সভায় জানানো হয়। পাশাপাশি টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচারেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—কোরবানির দুই থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, প্রতি গরুর চামড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং প্রতি ছাগলের চামড়ায় ৩ থেকে ৪ কেজি লবণ ব্যবহার, বায়ু চলাচলসমৃদ্ধ স্থানে চামড়া সংরক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণে উৎসাহ প্রদান। এছাড়া পশুর হাটে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অপপ্রচার ও চামড়া বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়ক ও মহাসড়কের পাশে পশুর হাট না বসানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আব্দুর রহিম খান সভা পরিচালনা করেন। সভায় অংশগ্রহণকারী বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশন প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ এলাকার প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
 

আরও পড়ুন

×