ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, জলাবদ্ধ অর্ধলাখ মানুষ

দৌলতপুরে দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, জলাবদ্ধ অর্ধলাখ মানুষ
×

ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে নদীর পানি। এরই মধ্যে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা এলাকা থেকে তোলা -সমকাল

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৭ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। এর ফলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলাখ মানুষ। এর মধ্যে নদীভাঙনের খবর আসছে। ফলে একদিকে পানি বাড়ার আতঙ্ক, অন্যদিকে বসতভিটা হারানোর ভয়– দুদিক থেকেই চাপে তীরবর্তী বাসিন্দারা।

দৌলতপুর উপজেলার কোথাও হাঁটু, কোথাও তারও বেশি পানি। জরুরি প্রয়োজনে বের হতে হলে ভরসা নৌকা। ঘরের গৃহপালিত পশুগুলোকে নিয়ে কেউ উঠেছেন উঁচু জায়গায়, কেউবা ঘরের বারান্দা কিংবা মাচায় আশ্রয় দিয়েছেন। বেশি বিপাকে পড়েছেন উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মানুষ। দুই ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। রোগী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে পড়তে হচ্ছে বেশি বিপাকে। ঘর থেকে বের হওয়া, বাজার করা কিংবা প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ সংগ্রহ– সবকিছুতেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠও। ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৪০০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। 
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক শূন্য ২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও দ্রুত বাড়ছে পানি। পানি বাড়লে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। ইউএনও অনিন্দ্য গুহ জানান, ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শিবগঞ্জে দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের দুই হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নদীতীরবর্তী সদর উপজেলার শাহজাহানপুর, আলাতুলি ও নারায়ণপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসায় পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ধানের জমি। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশন সংকট।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির ধান, পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ।
জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা গেছে, পানি ঢুকে পড়ায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। পানি ওঠায় এসব প্রতিষ্ঠানে আপাতত পাঠদান বন্ধ।
মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতেও পানি বাড়ছে। তবে পাউবো বলছে, জেলার তিন নদীর কোনোটিরই বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম বলেন, শনিবার (আজ) পর্যন্ত পদ্মার পানি বাড়তে পারে। এর পর পানি নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে রাজশাহীতে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৭৯ মিটার নিচ দিয়ে বইছে পদ্মার পানি। মিডিলচর, চরক্ষিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পানি উঠছে। 
(রাজশাহী ব্যুরো, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও 
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি)

আরও পড়ুন

×