ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাটারি রিকশাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার বিকল্প নেই

বিআইপির সেমিনারে বক্তারা

ব্যাটারি রিকশাকে শৃঙ্খলার  মধ্যে আনার বিকল্প নেই
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানবাহনকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। তারা বলেছেন, ব্যাটারি রিকশার কারণে ঢাকা শহরে যানজট বেড়েছে। এই পেশার সঙ্গে এখন বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্ত। রাতারাতি তাদের বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। বরং একটি পদ্ধতির মাধ্যমে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। 

গতকাল বুধবার রাজধানীর বাংলামোটরের প্ল্যানার্স টাওয়ারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আয়োজিত ‘ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান এবং টেকসই গণপরিবহন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব অভিমত ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। 
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান এবং পরিকল্পনাবিদ তাহসিন রেজা জানান, নগরের দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন সমস্যার সমাধানে শক্তিশালী গণপরিবহনের কোনো বিকল্প নেই। তবে এর অর্থ রিকশা বা ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানকে হঠাৎ করে বাদ দেওয়া নয়; বরং এসব যানকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। কার্যকর বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট তৈরি করতে পারলে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। 

হাবিবুর রশিদ বলেন, যানজট নিরসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সরকার। বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দিতে শুল্ক কমানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সুবিধা, গবেষণা এবং ব্যাংক ঋণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তঃজেলা বাস ঢাকায় প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ, বাস টার্মিনালগুলোকে সিটি বাস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ, ফিটনেসবিহীন বাস ব্যবস্থাপনা, লেভেল ক্রসিং, ঢাকার আশপাশে ওভারপাস-আন্ডারপাস, কমিউটার ট্রেন, নৌপথ, মেট্রোরেল ও মনোরেল নিয়ে কাজ করছে। 
তিনি আরও বলেন, ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানগুলো হঠাৎ করে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চলাচলের নির্দিষ্ট পথ, কর প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয় নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই প্রয়োজন এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া উচিত। সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ এবং ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান নিয়ে সরকার এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায়, যাতে সংশ্লিষ্ট সবাই পরিবহন-সংক্রান্ত ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
বিআইপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পরিকল্পনাবিদ ড. আখতার মাহমুদ বলেন, মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর আইন প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এস. এম. সোহেল মাহমুদ বলেন, ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান নিয়ে প্রথমেই একটি সুস্পষ্ট নীতি তৈরি করা প্রয়োজন। এসব যানবাহনের কারণে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাবের প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে দেশে আরও নির্ভরযোগ্য গবেষণা প্রয়োজন। যথাযথ নীতি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব যান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বিআইপির যুগ্ম সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ কাজী সালমান হোসেনের সঞ্চালনায় এবং বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পরিকল্পনাবিদ মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মশিউর রহমান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (তেজগাঁও) রফিকুল ইসলাম, বিআইপির উপদেষ্টা পরিষদ আহ্বায়ক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×