সমন্বয়ের অভাবে আইনের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভুক্তভোগী
আসকের সংলাপে বক্তারা
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৩ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১২
| প্রিন্ট সংস্করণ
মানবাধিকার সুরক্ষায় দেশে বিভিন্ন আইন, নীতি এবং সরকারি-বেসরকারি নানা সেবা ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কার্যকর প্রয়োগ, দ্রুত প্রতিকার, সেবার সহজলভ্যতা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাবে এই আইনি সুরক্ষার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষরা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এই কাঠামোগত দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতা দূর করার দাবি জানিয়েছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আয়োজিত সংলাপের বক্তারা।
গতকাল বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নারী-শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ: অংশীজন সংলাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, বিচারক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সংলাপের শুরুতে কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, ‘আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকার পরও জবাবদিহি এবং সমন্বয়ের অভাবে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যাও একেবারেই নগণ্য। অথচ নারী ও শিশুর পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে শেল্টার সাপোর্ট প্রয়োজন।’
নারীপক্ষের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও আইনজীবী কামরুন নাহার বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকার কথা থাকলেও, মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। হাসপাতাল বা থানায় সেবা নিতে গিয়ে নারীরা এখনও বাজে আচরণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজমিন সুলতানা বলেন, ‘নারী, শিশু ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার লঙ্ঘিত না হওয়াই হলো তাদের প্রকৃত সুরক্ষা। আর যদি অধিকার লঙ্ঘিত হয়েই যায়, তবে দ্রুত প্রতিকার দেওয়ার কাজটি রাষ্ট্রের কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার লিজা বেগম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা আইভী আক্তার প্রমুখ।
- বিষয় :
- আসক