১২৫৩৭ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৮ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই সঙ্গে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় একটি অতিরিক্ত এলএনজি কার্গো কেনা, টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল আমদানি, যমুনার তীর সংরক্ষণসহ আরও কয়েকটি ক্রয় ও উন্নয়ন প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাস থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত জিটুজি পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে জ্বালানি তেল আমদানির শর্ত শিথিলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যে নেগোসিয়েশনে সম্মত প্রিমিয়াম, পরিমাণ ও বর্তমান রেফারেন্স প্রাইস অনুযায়ী ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সুপারিশকৃত দরদাতাদের মধ্যে রয়েছে চীনের ইউনিপেক ও পেট্রোচায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি। এ চুক্তিমূল্য ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আগামী ১০ নভেম্বর একটি অতিরিক্ত কার্গো এলএনজি কেনার দর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এলএনজির একক দর নির্ধারণ করা হয়েছে জেকেএম শূন্য দশমিক শূন্য ২ মার্কিন ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ।
বৈঠকে সরকারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
যমুনা নদীর তীর রক্ষায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ১ হাজার ৬২৫ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজে ১৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পের একটি নির্মাণকাজে ব্যয় ৬১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার ৫৭৩ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরংয়ে আরসিসি জেটি ও আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণে ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
পিপিপিতে দুই টেক্সটাইল মিল
এর আগে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির একই দিনের বৈঠকে নীলফামারীর দারোয়ানী ও মাগুরা টেক্সটাইল মিল পিপিপি পদ্ধতিতে পুনরায় চালুর জন্য বেসরকারি অংশীদারের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি পিপিপিতে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ইতোমধ্যে বেসরকারি অংশীদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩৭ দশমিক ৮৬ একর জমির স্থাপিত দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলটি ১৯৮০ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। এটি চালুর জন্য ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রডাক্টস বিডি লিমিটেডকে পছন্দের দরদাতা করা হয়েছে। ৩০ বছরের চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটি এককালীন ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি এবং তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষে মাসে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৭ টাকা কন্ট্রাক্ট ফি দেবে। পাশাপাশি ৭৫ লাখ টাকা ডেভেলপমেন্ট ফি ও ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে। মিলটিতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।
১৬ দশমিক শূন্য ৬ একর জমির মাগুরা টেক্সটাইল মিলটি ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। এটি চালুর জন্য চর্কা টেক্সটাইল লিমিটেডকে পছন্দের দরদাতা করা হয়েছে। ৩০ বছরের চুক্তিতে সাইনিং মানি ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষে বছরে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা কন্ট্রাক্ট ফি দিতে হবে। ডেভেলপমেন্ট ফি ৫০ লাখ এবং ব্যাংক গ্যারান্টি ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দুই মিলেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
১০ লাখ ৭৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় চারটি পৃথক প্রস্তাবে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে বিএডিসির মাধ্যমে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা (প্রতি টন ৩৮৩.৮০ ডলার); মরক্কোর ওসিপি থেকে দুটি পৃথক প্রস্তাবে ৮০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৮৭৪ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা (প্রতি টন ৮৮৫ ডলার)। এ ছাড়া ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয়ে বিসিআইসির জন্য সৌদি আরবের সাবিক থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার (প্রতি টন ৩৯১.৬৬ ডলার) আমদানি করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে আরও তিনটি পৃথক প্রস্তাবে বিভিন্ন দেশ থেকে স্থানীয় আমদানিকারকদের মাধ্যমে ৯ লাখ ২০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে ৪৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয়ে স্থানীয় ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ লাখ টন ডিএপি সার (প্রতি টন ৯৩৮ ডলার দরে), দ্বিতীয় প্রস্তাবে ৮ কোটি ৭৭ লাখ ৭৩ হাজার ৪০০ ডলার ব্যয়ে ১৪টি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন এমওপি সার (প্রতিটন ৩৯৮.৯৭ ডলার দরে) এবং তৃতীয় প্রস্তাবে ১৫ কোটি ১২ লাখ ডলার ব্যয়ে স্থানীয় ১০টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২ লাখ টন টিএসপি সার (প্রতি টন ৭৫৬ ডলার দরে) কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
- বিষয় :
- জ্বালানি
- অর্থ মন্ত্রণালয়