ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রেনাটার মুনাফা বাড়লেও শেয়ারদর কমেছে

রেনাটার মুনাফা বাড়লেও শেয়ারদর কমেছে
×
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:১৭ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৪২

আগের বছরের তুলনায় মুনাফা ৬৬ শতাংশ বাড়ার খবরেও ওষুধ খাতের কোম্পানি রেনাটার শেয়ারদর না বেড়ে উল্টো কমেছে। গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারপ্রতি দর ২ টাকা ৬০ পয়সা কমে ৪৪৫ টাকা ৫০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে। অবশ্য মুনাফা বাড়লেও কোম্পানিটি গত বছরের সমান ৫৫ শতাংশ হারে, অর্থাৎ প্রতি শেয়ারে সাড়ে ৫ টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এটি শেয়ারদর কমার কারণ হতে পারে বলে জানান শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন সমাপ্ত সর্বশেষ হিসাব বছরে রেনাটার শেয়ারপ্রতি ৩১ টাকা ৭৬ পয়সা নিট মুনাফা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১৯ টাকা ৩৬ পয়সা। আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ৩০৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩২৯ টাকা ছাড়িয়েছে।

তবে ডিএসইতে রোববার কোম্পানিটির শেয়ার ৪৪৫ টাকা ৫০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে, যা শনিবারের তুলনায় ২ টাকা ৬০ পয়সা কম। যদিও লেনদেনের মাঝে ৪৪৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকা ৮০ পয়সায় শেয়ারটি কেনাবেচা হয়।

দেশের ওষুধ খাতের অন্যতম এ কোম্পানিটির মুনাফায় কয়েক বছর ধরে বড় উত্থান-পতন হচ্ছে। করোনা অতিমারির বছরে বড় মুনাফা হয়েছিল। তবে পরের বছর ডলার সংকটে মুদ্রার বিনিময় হার ব্যাপক পরিবর্তনে কোম্পানিটির কাঁচামাল আমদানি খরচ অনেক বেড়ে যায়। পাশাপাশি ঋণও বেড়ে কয়েক গুণে উন্নীত হয়। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা এবং লভ্যাংশ বিতরণে।

২০২৫ সালে রেনাটার ইপিএস ১৯ টাকা থাকলেও ২০২৪ সালে ছিল ৩১ টাকা। এর আগে কোম্পানিটির ইপিএস আরও ভালো ছিল। ২০২১ সালের ইপিএস ছিল ৫১ টাকা ৯৪ পয়সা। পরের বছর ২০২২ তা কিছুটা কমে ৪৭ টাকা ৬৮ পয়সায় নামে। ২০২৩ সালের ইপিএস আরও কমে ২০ টাকা ৪০ পয়সায় নেমেছিল। এ পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণ পরিশোধে কোম্পানিটি চার বছরে রূপান্তরযোগ্য প্রেফারেন্স শেয়ার ছেড়ে মূলধন সংগ্রহ করেছিল। এরপর সুদ ব্যয় কমার পাশাপাশি ওষুধ বিক্রি থেকেও মুনাফা বেড়েছে।

বাজার সংক্ষেপ

এদিকে গতকাল রোববারও ডিএসইতে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমেছে। এদিন ৯৮ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে ১৯৭টির দর কমেছে। তবে উৎপাদন ও সেবা খাতসংশ্লিষ্ট ৬২ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে ১৪৯টির দর কমেছে, যেখানে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা খাতের ৩৬ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে ৪৮টির দর কমেছে।

নতুন ডিআরে ফের লেনদেন বিঘ্নিত

‘নিয়ার ডিআর’-এর মাধ্যমে লেনদেন করতে গিয়ে গতকাল রোববারও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন বিঘ্নিত হয়েছে। তবে শনিবারের তুলনায় এর ব্যাপ্তি ছিল অনেক কম।

অন্যতম শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা জানান, শনিবার প্রায় এক ঘণ্টা লেনদেন বিঘ্নিত হলেও রোববার লেনদেনের শুরুতে কয়েক মিনিট পরই স্বাভাবিক লেনদেন করা গেছে। তাদের বাইরে আরও অন্তত দুটি ব্রোকারেজ হাউসে এ সমস্যা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

অযাচিত কোনো দুর্ঘটনায় বা দুর্যোগে মূল ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দ্রুত লেনদেন ব্যবস্থা সচল করতে পৃথক ‘ডিজাস্টার রিকভারি’ বা ডিআর ডেটা সেন্টার ব্যবস্থার প্রচলন আছে। ‘নিয়ার ডিআর’ বলতে এমন একটি ব্যাকআপ বা রিকভারি সাইটকে বোঝায়, যা মূল ডেটা সেন্টার থেকে তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি ভৌগোলিক দূরত্বে থাকে। রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে অফিস স্থানান্তরের পর সেখানকার ডেটা সেন্টার ব্যবহার করে স্টক এক্সচেঞ্জটির লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছিল। তবে দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কারওয়ান বাজারের একটি ভবনে ‘নিয়ার ডিআর’ স্থাপন করা হয়েছে। গত দুই দিন এ সেন্টার থেকে প্রথমবারের মতো লেনদেন হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার সমকালকে জানান, শনিবার ১৭টি ব্রোকারেজ হাউসে এ সমস্যার তথ্য পাওয়া গেছে। রোববার সকালেও তিন ব্রোকারেজ হাউসে লেনদেন বিঘ্নিত হওয়ার তথ্য পেয়েছেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত হতে সমস্যার কারণে এ সমস্যা হয়। ব্যান্ডউইথ বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×