ট্রেন ছাড়ছে বিলম্বে, ছাদভর্তি মানুষ
ছবি: সমকাল
যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২২ | ০০:০৫ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২২ | ০০:২০
একদিন পরই ঈদুল আজহা। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে কয়েকদিন ধরেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। এরই ধারাবাহিতা বজায় আছে শুক্রবারও। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সব পথ মিলেছে রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল আর লঞ্চঘাটে। ঘরমুখো মানুষরা জানাচ্ছেন, সড়কে তীব্র যানজট পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রেনে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে সবগুলো ট্রেন ঢাকা ছাড়তে বিলম্ব করছে।
সড়ক পথে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হওয়া সরকারি কর্মকর্তা সোলায়মান আলী সমকালকে জানান, নাবিল বাসে বৃহস্পতিবার রাতে গাবতলী থেকে রওনা হয়েছি। কিন্তু সকাল ৯টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু (যমুনা) সেতুতে উঠতে পারিনি। ঘাটে ঘাটে বিশেষ করে টোল পর্যন্ত প্রচণ্ড জ্যাম ছিল। সেতুর পরে জ্যাম না থাকলেও সন্ধ্যার আগে পঞ্চগড় পৌঁছাতে পারব বলে মনে হচ্ছে না।
জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতুতে দুর্ঘটনার কারণে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট টোল আদায় বন্ধ থাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ভোর রাত থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে সদর উপজেলার রসুলপুর পর্যন্ত এ যানজটের সৃষ্টি হয়। জ্যামের কারণে গন্তব্যে যেতে দুই থেকে তিনগুণ বেশি সময় লাগছে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সেতুর পশ্চিম পাশে ১৭ নম্বর পিলারের কাছে বাস পিকআপের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এতে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট টোল আদায় বন্ধ রাখে সেতু কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত যানবাহনেরও চাপ রয়েছে।
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে যানবাহনের তুলনায় ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বেশি। মিলছে না বাসের টিকিট। মহাসড়কে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও বাস মিলছে না সহজে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে ট্রাক-পিকআপে বাড়ি যাচ্ছেন। কেউ কেউ যাত্রীবাহী বাসের ছাদেও বসছেন।
শুক্রবার সকাল থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিটি ট্রেন বিলম্বে ছেড়েছে। ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী ব্যাংক কর্মকর্তা ফেরদৌস মাহমুদ জানান, আমি নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রী। ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল ৬:৪০ মিনিটে কিন্তু ছেড়েছে পৌনে দশটার দিকে।
তিনি বলেন, এসি টিকিট হওয়ায় ট্রেনে উঠতে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু আমার দুইজন ছোটভাই নন-এসিতে টিকিট পেয়েছিল। তারা শেষ পর্যন্ত উঠতে পারলো কিনা! আসন সংখ্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষ উঠেছে। ছাদেও উঠেছেন অনেকে।
পঞ্চগড়গামী ট্রেনযাত্রী রবিউল ইসলাম রবি শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সমকালকে বলেন, পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে বৃহস্পতিবার রাতে রওনা হয়েছি। ১২টার ট্রেন ছেড়েছে রাত তিনটায়। ভোর ৫টা থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপাশে আটকা আছি। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে দুটি বগি দেবে গেছে। বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে। কখন বাড়ি যাব জানি না।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারোয়ার জানান, ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে ছেড়েছে। মানুষের ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও ভোগান্তিহীন করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।
