ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেরিতে টিকা, ঝুঁকিতে লাখো শিশু

দেরিতে টিকা, ঝুঁকিতে লাখো শিশু
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২২ | ১২:০০

দেশে বর্তমানে চার লাখ শিশু হেপাটাইটিস 'বি' ভাইরাসে আক্রান্ত। টিকা দেরিতে প্রয়োগে ঝুঁকিতে আছে আরও প্রায় ২০ লাখ শিশু। উদ্বেগের আরেক বড় কারণ হেপাটাইটিস 'বি' ও 'সি' ভাইরাসে আক্রান্ত ৯০ শতাংশই জানে না, তারা শরীরে ভাইরাসটি বহন করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মায়ের হেপাটাইটিস 'বি' থাকলে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই তাদের ২০ থেকে ২৫ ভাগের মৃত্যু হয়। তবে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নিশ্চিত করলে এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। বিশ্বের ৮০টি দেশ এই পদ্ধতিতে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমিয়ে এনেছে। তাইওয়ান নামিয়ে এনেছে শূন্যের কোঠায়। তবে বাংলাদেশে এখনও এই টিকা দেওয়া হয় জন্মের ষষ্ঠ সপ্তাহে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে এক কোটি মানুষ হেপাটাইটিস 'বি' ও 'সি' ভাইরাসে আক্রান্ত। এতে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তবে প্রতি বছর কতজন শিশু নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে বা মৃত্যুবরণ করছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। ২০০৮ সালের ২৮ জুলাই বিশ্ববাসীকে সচেতন করতে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয় 'বিশ্ব হেপাটাইটিস অ্যালায়েন্স'। ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দিবসটিকে স্বীকৃতি দেয়। এর পর থেকে প্রতি বছর ২৮ জুলাই দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, হেপাটাইটিস সংক্রমণ প্রতিরোধে জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে সবাইকে যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য 'হেপাটাইটিস, আর অপেক্ষা নয়' অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, দেশে হেপাটাইটিস প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যক্তি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্নিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার পাশাপাশি এ ব্যাধি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং আরও সচেতন হতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ইপিআইয়ের আওতায় বর্তমানে শিশুদের ১১টি টিকা দেওয়া হয়। ২০০৩ সালে হেপাটাইটিস 'বি' টিকা দেওয়া শুরু হয়। সব মিলে সারাদেশে ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এটি দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ৯০ শতাংশ শিশুকে হেপাটাইটিসের প্রতিষেধক টিকা নিশ্চিত করতে পারলে এর প্রাদুর্ভাব কমিয়ে আনা সম্ভব।
রোগ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সংক্রমণ ব্যাধি বিভাগের পরামর্শক তাজুল ইসলাম এ বারি জানান, লিভার সিরোসিস এবং প্রাথমিক লিভার ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হেপাটাইটিস। জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নিশ্চিত করতে পারলে এটি অনেক অংশে কমে আসত। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে যে টিকা দেওয়া হয়, এটি নিতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মামুন আল মাহতাবের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, দেশের জনসংখ্যার ৫ শতাংশ হেপাটাইটিস 'বি' ভাইরাসে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে ১ শতাংশ শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হেপাটাইটিস 'বি' প্রতিরোধে তিন ডোজ টিকার মধ্যে প্রথমটি জন্মের পরপরই, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে। তবে বাংলাদেশে এই টিকা দেওয়া হয় জন্মের ষষ্ঠ সপ্তাহে।
ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, শিশুরা মায়ের কাছ থেকে এই ভাইরাস পাওয়ায়, ঠিক সময়ে টিকা দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, এখনও দেশের ৫০ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে। তাদের জন্মের পরপরই টিকা দেওয়া এখনই সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

×