১০ শতাংশও আসছে না চিকিৎসার আওতায়
×
রাজবংশী রায়
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:১৬
বড়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শিশু ক্যান্সার রোগী বাড়ছে। শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ব্লাড ক্যান্সারে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে ব্রেন, লিম্ম্ফোমা, কিডনি, লিভার ও অস্থি (বোন) ক্যান্সারেও আক্রান্ত হচ্ছে তারা। দেশে মোট ক্যান্সার রোগীর মধ্যে ৪ শতাংশ শিশু-কিশোর। শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা বেশি ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের মধ্যে ১০ শতাংশও চিকিৎসার আওতায় আসছে না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাসপাতালে শিশু ক্যান্সার বিভাগ থাকলেও সেবা মিলছে মাত্র তিনটিতে।
এমন প্রেক্ষাপটে আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয়- 'হলে ক্যান্সার, সম্ভাবনা আছে বাঁচার।'
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাশেদ মাহমুদ সমকালকে বলেন, প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচজন নতুন করে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিতে তাদের বিভাগে আসে। এ হিসাবে বছরে এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ রোগী নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে- এমন ধারণা পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসা নিতে গিয়ে শুরুতেই অর্ধেকের বেশি রোগী ড্রপ আউট হয়ে যায়। কয়েক মাস পর আরও অর্ধেক চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত দুইশ'র মতো রোগী হয়তো চিকিৎসা নেয়।
চিকিৎসায় অনাগ্রহের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. রাশেদ মাহমুদ বলেন, সবচেয়ে বড় কারণ আর্থসামাজিক অবস্থা। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য হয়তো অধিকাংশ পরিবারেরই নেই। শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে জানার পর তারা হতাশ হয়ে পড়েন। ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুকে বাঁচানো যাবে না, এমন ধারণা থেকে অনেকেই আর্থিক ব্যয়ের ঝুঁকি নিতে চান না। আবার চিকিৎসার অপ্রতুলতার কারণেও রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এর ফলেও অনেকে চিকিৎসায় অনাগ্রহী হয়ে পড়েন।
ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ডহুড ক্যান্সারের (আইসিসি) জরিপে বলা হয়েছে, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী প্রায় আড়াই লাখ শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে বছরে এ সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। এদের মধ্যে ১০ শতাংশের কম আক্রান্ত চিকিৎসাসেবার আওতায় আসছে। ৯০ শতাংশই চিকিৎসা আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রকৃত ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি। কারণ আক্রান্ত সবাই হাসপাতালে যায় না। অনেকে শেষ সময়ে হাসপাতালে গেলেও যথাযথ চিকিৎসা পায় না। কত শিশু এ পর্যন্ত ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে, এ রোগে মারা গেছে, এ ধরনের কোনো সঠিক হিসাবও নেই।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ২০০৮ সাল থেকে পেডিয়াট্রিক অনকোলজি বিভাগে শিশুদের জন্য পৃথক ক্যান্সার চিকিৎসা চালু করা হয়। বিভাগটিতে এ পর্যন্ত ছয় হাজার শিশু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ পুরুষ শিশু এবং ৩৩ শতাংশ নারী শিশু। মোট আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ ব্লাড ক্যান্সার পাওয়া গেছে।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যান্সার অপিমেডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, খাদ্যগ্রহণের কারণে ক্যান্সার বেড়ে যাওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ, কোমল পানীয় পান, শাকসবজি কম খাওয়াসহ অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে শিশুরা বেশি ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। বংশগত কারণেও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে।
চিকিৎসা সংকট :দেশে শিশু ক্যান্সার চিকিৎসায় গভীর সংকট রয়েছে। জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও আটটি পুরোনো সরকারি মেডিকেল কলেজে পেডিয়াট্রিক অনকোলজি বিভাগ আছে। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ছাড়া অন্য ছয়টিতে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয় না। চট্টগ্রামে সীমিত আকারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেলে শিশু রোগীদের মধ্যে পৃথক শয্যা নেই। এ ছাড়া সারাদেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও আছেন মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন। তাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছেন তিন অধ্যাপক।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মমতাজ বেগম বলেন, শিশু ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ দেশে মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর। অথচ ৫-১০ বছর বয়সী একজন শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অকালেই মারা যাচ্ছে। এ নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দেবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসজিডি) অর্জনে বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ অসংক্রামক ব্যাধি মোকাবিলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও এসব ব্যাধি প্রতিরোধ ও প্রতিকারে জোরালোভাবে কাজ হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে একশ' শয্যার ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্যান্সারসহ জীবনঘাতী সব ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ে সরকার জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কর্মসূচি :দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আলোচনা সভা এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রাসহ সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করবে।
এমন প্রেক্ষাপটে আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয়- 'হলে ক্যান্সার, সম্ভাবনা আছে বাঁচার।'
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাশেদ মাহমুদ সমকালকে বলেন, প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচজন নতুন করে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিতে তাদের বিভাগে আসে। এ হিসাবে বছরে এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ রোগী নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে- এমন ধারণা পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসা নিতে গিয়ে শুরুতেই অর্ধেকের বেশি রোগী ড্রপ আউট হয়ে যায়। কয়েক মাস পর আরও অর্ধেক চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত দুইশ'র মতো রোগী হয়তো চিকিৎসা নেয়।
চিকিৎসায় অনাগ্রহের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. রাশেদ মাহমুদ বলেন, সবচেয়ে বড় কারণ আর্থসামাজিক অবস্থা। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য হয়তো অধিকাংশ পরিবারেরই নেই। শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে জানার পর তারা হতাশ হয়ে পড়েন। ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুকে বাঁচানো যাবে না, এমন ধারণা থেকে অনেকেই আর্থিক ব্যয়ের ঝুঁকি নিতে চান না। আবার চিকিৎসার অপ্রতুলতার কারণেও রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এর ফলেও অনেকে চিকিৎসায় অনাগ্রহী হয়ে পড়েন।
ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ডহুড ক্যান্সারের (আইসিসি) জরিপে বলা হয়েছে, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী প্রায় আড়াই লাখ শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে বছরে এ সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। এদের মধ্যে ১০ শতাংশের কম আক্রান্ত চিকিৎসাসেবার আওতায় আসছে। ৯০ শতাংশই চিকিৎসা আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রকৃত ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি। কারণ আক্রান্ত সবাই হাসপাতালে যায় না। অনেকে শেষ সময়ে হাসপাতালে গেলেও যথাযথ চিকিৎসা পায় না। কত শিশু এ পর্যন্ত ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে, এ রোগে মারা গেছে, এ ধরনের কোনো সঠিক হিসাবও নেই।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ২০০৮ সাল থেকে পেডিয়াট্রিক অনকোলজি বিভাগে শিশুদের জন্য পৃথক ক্যান্সার চিকিৎসা চালু করা হয়। বিভাগটিতে এ পর্যন্ত ছয় হাজার শিশু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ পুরুষ শিশু এবং ৩৩ শতাংশ নারী শিশু। মোট আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ ব্লাড ক্যান্সার পাওয়া গেছে।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যান্সার অপিমেডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, খাদ্যগ্রহণের কারণে ক্যান্সার বেড়ে যাওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ, কোমল পানীয় পান, শাকসবজি কম খাওয়াসহ অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে শিশুরা বেশি ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। বংশগত কারণেও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে।
চিকিৎসা সংকট :দেশে শিশু ক্যান্সার চিকিৎসায় গভীর সংকট রয়েছে। জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও আটটি পুরোনো সরকারি মেডিকেল কলেজে পেডিয়াট্রিক অনকোলজি বিভাগ আছে। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ছাড়া অন্য ছয়টিতে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয় না। চট্টগ্রামে সীমিত আকারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেলে শিশু রোগীদের মধ্যে পৃথক শয্যা নেই। এ ছাড়া সারাদেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও আছেন মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন। তাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছেন তিন অধ্যাপক।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মমতাজ বেগম বলেন, শিশু ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ দেশে মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর। অথচ ৫-১০ বছর বয়সী একজন শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অকালেই মারা যাচ্ছে। এ নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দেবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসজিডি) অর্জনে বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ অসংক্রামক ব্যাধি মোকাবিলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও এসব ব্যাধি প্রতিরোধ ও প্রতিকারে জোরালোভাবে কাজ হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে একশ' শয্যার ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্যান্সারসহ জীবনঘাতী সব ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ে সরকার জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কর্মসূচি :দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আলোচনা সভা এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রাসহ সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করবে।
- বিষয় :
- ক্যান্সার
