ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সারাদেশে বিশেষ অভিযান, বিএনপি নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার আরও ২৮৫

সারাদেশে বিশেষ অভিযান, বিএনপি নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার আরও ২৮৫
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ | ১১:০৯ | আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ | ১১:০৯

সারাদেশে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে বুধবার আরও ২৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর ৫০টি থানা এলাকায় গ্রেপ্তার রয়েছে ২৫৭ জন। পুলিশের ভাষ্য, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সারাদেশে রাষ্ট্রীয় নানা অনুষ্ঠান থাকে। এসব অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার স্বার্থে জঙ্গি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধী ধরতে ১ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চলছে। এ সময় আবাসিক হোটেল, মেস, সড়ক পথের পাশাপাশি রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ সদরদপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে রাজধানীতে আরও ২৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে রাজধানীতে ১ হাজার ৫২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সাধারণ মানুষ। তবে যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশ পথে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে গাড়ির যাত্রীর জিজ্ঞাসাবাদ করছে। একাধিকবার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদকে অনেকেই ভোগান্তি হিসেবে দেখছেন।

ধামরাই থেকে নিয়মিত ঢাকা আসা মোবারক হোসেন সমকালকে বলেন, ‘ঢাকায় প্রবেশের আগে-পরে পুলিশ গাড়ি থামিয়ে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে আগে পড়তে হয়নি।’

বুধবারও রাজধানীর আবাসিক হোটেল ও বিভিন্ন মেসে অভিযান চালায় পুলিশ। রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে চৌকি বসিয়ে তল্লাশি করা হয়। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে অভিযান চালায় নৌপুলিশ। এ সময় ঢাকায় আসার কারণসহ অনেকের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সুমন ইসলাম জানান, রেলস্টেশনে পুলিশ তরুণ ও যুবকদের বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাঁদের কাছে কেন ঢাকায় এলেন, কোন দল করেন- এমন প্রশ্নও করা হচ্ছে।

তবে ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) ওসি ফেরদৌস আহমেদ সমকালকে জানান, মহান বিজয় দিবস সামনে রেখে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিন্তু কারও রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়া হচ্ছে না।

সদরঘাট নৌপুলিশ থানার ওসি শফিকুর রহমান জানান, সদরঘাট টার্মিনালসহ আওতাধীন এলাকায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালাচ্ছেন তাঁরা।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার রাতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের ১৩৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন বালিপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন বাদশা। পরে পুলিশ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তার করে। ইন্দুরকানী থানার ওসি এনামুল হক এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নাশকতার মামলায় মঙ্গলবার রাতে বিএনপি-জামায়াতের তিন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন- নুরনগর ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন শ্রমিক দল সভাপতি মোবারক হোসেন, জামায়াতের কর্মী বাকি বিল্লাহ ও আকরাম হোসেন।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গোপন বৈঠক থেকে উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানসহ ২০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় নেতাকর্মীর হামলায় পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছেন ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা। তবে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে বুধবার বাতিসা এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর সুরমা মার্কেট এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। আলী আকবরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ।

ময়মনসিংহে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক আকন্দ ওরফে লিটন ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেনকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, লিটনের বিরুদ্ধে ছয় ও বিল্লালের বিরুদ্ধে একটি মামলায় পরোয়ানা ছিল।

[প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সিলেট ব্যুরো এবং সংশ্নিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি]

আরও পড়ুন

×