ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সাংবাদিকরা জেগে থাকে বলে সমাজে অপরাধ কম হয়: হাইকোর্ট

কুড়িগ্রামের সাংবাদিক রিগ্যানের সাজার নথিপত্র তলব

কুড়িগ্রামের সাংবাদিক রিগ্যানের সাজার নথিপত্র তলব
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২০ | ০৭:৫০

কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে জেল-জরিমানা দেওয়ার ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সব নথিপত্র তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৩ মার্চের মধ্যে সব নথিপত্র দাখিল করার পাশাপাশি এ ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নেওয়া পদক্ষেপও জানাতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ সোমবার শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন। শুনানিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেন, 'রাষ্ট্রের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের মধ্যে সংবাদপত্র অন্যতম। সংবাদপত্র যদি ঠিকমতো কাজ করে তাহলে বাকি তিনটি স্তম্ভও ঠিকভাবে কাজ করবে। সাংবাদিকরা জেগে থাকে বলে সমাজে অপরাধ কম হয়।'

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে গত শুক্রবার মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাদক রাখার অভিযোগে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে গতকাল অভিযুক্ত কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকসহ তিন ম্যাজিস্ট্রেটকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করেছে সরকার। তবে এর আগেই রোববার বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদ জনস্বার্থে এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন; যার শুনানি নিয়ে ওইদিনই হাইকোর্ট সাংবাদিক আরিফুলের বিরুদ্ধে মামলা ও সাজার বিষয়ে যাবতীয় তথ্য রাষ্ট্রপক্ষকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সোমবার রাষ্ট্রপক্ষ এসব তথ্য জানানোর পর এ বিষয়ে ফের আদেশ দেন হাইকোর্ট।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন ও আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশিস ভট্টাচার্য্য। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তখন হাইকোর্ট বলেন, 'সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ আদালত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। কারণ একজন ব্যক্তি (কুড়িগ্রামের ডিসি) রাষ্ট্রকে রিপ্রেজেন্ট করে না। সরকারকেও রিপ্রেজেন্ট করে না। ব্যক্তি তার ভুলের দায় তাকেই নিতে হবে। তাকে সমর্থন না দিলে তা হবে রুল অব ল, আর সমর্থন দিলে রুল অব ল-এর ভায়োলেশন হবে।'

এ ঘটনায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ইতিবাচক ছিল জানিয়ে হাইকোর্ট আরও বলেন, 'আমাদের সবার উদ্দেশ্য হলো- সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম যেন যথাযথ বিচার পান। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইনস্ট্যান্ট (তাৎক্ষণিক) যে পদক্ষেপ নিলেন এমন সিদ্ধান্ত আগে দেখিনি।' এক পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে যদি দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে সাজা দেওয়া হয়, তাহলে সাংবাদিক আরিফুলের জামিন কীভাবে হয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে জানতে চান হাইকোর্ট। জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশিস ভট্টাচার্য্য জানান, ওই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন।

এ সময় হাইকোর্ট বলেন, পত্রপত্রিকায় লেখা হয়েছে, আরিফুলের পরিবার থেকে জামিন আবেদনের আগেই জামিন হয়েছে। এমন ঘটনায় উষ্ফ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট আরও বলেন, 'আপনি হাকিম, আপনিই সাজা দিলেন, আবার আপনিই জামিন দিলেন। সব কিছু তো আইনের মধ্যে হতে হবে।'

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আমিন উদ্দিন বলেন, 'ওই সাংবাদিক যদি তার রিপোর্ট ভুল করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দেওয়া যেত, অথবা অন্যান্য আইনে মামলা করা যেত। কিন্তু সেখানে তা না করে বাড়ি থেকে গভীর রাতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্ষমতা থাকলেই কোনো নাগরিককে রাতের বেলা ধরে এনে এভাবে সাজা দেওয়া যায় না। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার।'

তিনি আরও বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত হয়ে এ ধরনের সাজা দিয়েছেন। কারণ তারা বলেনি যে, এই অভিযান কোনো গোপন সংবাদের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এমনকি আশপাশের আর কোনো বাড়িতেও তল্লাশি করা হয়নি।

আরও পড়ুন

×