ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

মধ্যরাতে কান্নার শব্দ

ময়লার স্তূপ থেকে কন্যাশিশু উদ্ধার

ময়লার স্তূপ থেকে কন্যাশিশু উদ্ধার
×

ছবি- সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ২৩:৫৪

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১টা বাজে। কর্মরত আয়া হঠাৎ শুনতে পান শিশুর কান্নার শব্দ। জানালা দিয়ে তাকাতেই দেখতে পান, পাশের ময়লার স্তূপে পড়ে থাকা এক নবজাতক কাঁদছে। বিষয়টি নার্সদের জানালে তারা কন্যাশিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। গত সোমবার রাতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

নবজাতকটিকে উদ্ধারের পরপরই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত নবজাতকটির অভিভাবক কে এবং কী কারণে তাঁকে ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে গেছে তা জানা যায়নি। খবর পেয়ে রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া ও থানার ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা। 

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত এক নার্স জানান, কুড়িয়ে পাওয়ার কিছু আগে নবজাতকটির জন্ম হয়েছে। তবে জন্ম গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আশপাশের কোনো ক্লিনিক বা অন্য কোথাও জন্মের পর তাঁকে এখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে।

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুসরাত ফারজানা খান জানান, উদ্ধারের পরপরই নবজাতকটিকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সাদ করিম বলেন, নবজাতকটির মাথায় সামান্য আঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় রাত ৩টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নবজাতকটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া বলেন, আমি নিজেও একজন মা। খবরটি শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি। তাই ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছি। তিনি বলেন, শিশুটির সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গজারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাব্বির হোসেন বলেন, নবজাতকের জন্ম কোথায় হয়েছে, কে বা কারা এবং কী কারণে তাঁকে ডাস্টবিনে ফেলে রেখে গেছে তা শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। 

আরও পড়ুন

×