ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আলুর দর নিয়ন্ত্রণে হুমকি-ধমকিই সার

আলুর দর নিয়ন্ত্রণে হুমকি-ধমকিই সার
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০১:২৭

অভিযান, জরিমানা ও হুমকি-ধমকি– আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে কিছুই কাজে আসছে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দর নির্ধারণের এক সপ্তাহ পার হলেও ইচ্ছামতো আলু বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এমনকি মজুতদাররা হিমাগার থেকে বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। এতে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। হিমাগার পর্যায়ের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দামে হিমাগার পর্যায়ে আলু বেচলে কেজিতে কমপক্ষে ১০ টাকা লোকসান হবে। এর চেয়ে ভালো বিক্রি বন্ধ রাখা।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এত পদক্ষেপের পরও বাজার স্বাভাবিক না হলে ডিমের মতো আলুও আমদানি করা হবে। অবশ্য আমদানিতে চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মনে করছেন হিমাগার মালিকরা।

অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ায় ১৪ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, যা ওই দিনই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পরও ক্রেতারা ওই দামে আলু পাচ্ছেন না। গতকাল বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও বনানী ঘুরে আলু ৫০-৫২ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে কারওয়ান বাজারে বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। অথচ গেল বছর এই সময় আলু ছিল ২৩ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্যে, এক বছরের ব্যবধানে আলুর দাম বেড়েছে ৭৯ শতাংশ।

এদিকে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গতকালও সারাদেশে ৪৪টি টিম অভিযানে নামিয়ে ৫৯টি বাজারের ৯৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে।

মুন্সীগঞ্জের হিমাগারে বন্ধ বিক্রি

গত ১৬ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জে হিমাগার পরিদর্শনে গিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান পাকা রসিদের মাধ্যমে পাইকারিতে ২৭ এবং খুচরায় আলুর কেজি ৩৭ টাকা কার্যকরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। নির্ধারিত দর না মানলে নিলামে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তবে ব্যবসায়ীরা এসব আমলে নেননি। উল্টো মুন্সীগঞ্জের হিমাগারগুলোতে আলু বিক্রি বন্ধ রেখেছেন তারা। এতে সংকট দেখা দিয়েছে খুচরা বাজারে।

মুন্সীগঞ্জের কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে আলুর তীব্র সংকট। এরই প্রভাবে অন্যান্য সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে গেছে।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এ বি এম মিজানুল হক জানান, হিমাগার থেকে ব্যবসায়ীরা আলু ছাড়ছেন না বলে তারাও শুনেছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দাম না কমলে আমদানি

গতকাল রংপুর নগরীর হাজীরহাট এলাকায় আরমান কোল্ডস্টোরেজ পরিদর্শন শেষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, দাম নির্ধারণের পরও অসাধু ব্যবসায়ী ও হিমাগার সংশ্লিষ্টরা সিন্ডিকেট করে আলুর বাজার অস্থির করছেন। তবে সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে দু-এক দিনের মধ্যেই ডিমের মতো আলুও আমদানির সুপারিশ করা হবে।

অভিযানের সময় অসংগতি পাওয়ায় ওই হিমাগারের এজিএম রেজাউল করিম লেবু ও আলু ব্যবসায়ী রাসেল মিয়াকে পুলিশে দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু সমকালকে বলেন, ‘সরকার চাইলে যে কোনো সময় আলু আমদানির অনুমতি দিতে পারে। এতে সাময়িক দাম কমবে। কিন্তু এর প্রভাবও ভাবতে হবে। আমদানি হলে কেজিতে অন্তত ১০ টাকা লোকসান গুনতে হবে মজুতদারদের। আগামী মৌসুমে তারা চাষির কাছ থেকে আলু কেনা কমিয়ে দেবেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরা।’

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ও রংপুর অফিস]

আরও পড়ুন

×