করোনায় পুলিশের `ক্রাইসিস প্ল্যান`
ফাইল ছবি
সাহাদাত হোসেন পরশ
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২০ | ১৩:৪১ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:১৯
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে নানা দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত সারাদেশে ৬৫ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের আক্রান্ত হওয়া ঠেকাতে সারাদেশের সব থানা, ব্যারাক ও পুলিশ লাইন্স ঘিরে নেওয়া হয়েছে সমন্বিত পরিকল্পনা। শরীয়তপুরের জাজিরা থানা এলাকায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের যে মাঠচিত্র পাওয়া গেছে তাকে 'যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির' সঙ্গে তুলনা করা হয়। ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান নামের গাইডলাইন মেনে চলছেন সেখানকার মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশের ওই পরিকল্পনায় রয়েছে- থানা-ফাঁড়িতে পুলিশ ফোর্সদের ৫ ভাগে ও পুলিশ লাইন্সের ফোর্সদের ২০ ভাগে বিভক্ত করা হবে। ইতোমধ্যে নয়টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) তৈরি হয়েছে।
সংকটকালীন পরিস্থিতিতে শরীয়তপুরের থানাগুলোতে বিকল্প কোনো কর্মকর্তাকে ওসির দায়িত্ব পালন করতে হবে সেটা ঠিক করে রাখা হয়েছে। যেমন জাজিরায় থানায় দু'জনকে রিজার্ভ ওসি হিসেবে রাখা হচ্ছে। যদি কোনো কারণে ওই থানার ওসি আজহারুল ইসলাম সরকার করোনায় আক্রান্ত হন, তাহলে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মজিদ বকুল ওসির দায়িত্ব পালন করবেন। তিনিও যদি সংক্রমিত হন, তাহলে এসআই মনির হোসেন ওসির দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে জেলার পুলিশ সদস্যরা দিনে একটি করে জিঙ্ক ট্যাবলেট খাবেন। গতকাল সোমবার প্রত্যেক সদস্যের হাতে ৩০টি করে জিঙ্ক ট্যাবলেট তুলে দেন শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান দোলা।
জাজিরা থানায় করোনা পরিস্থিতি সমন্বয়ে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হচ্ছেন পুলিশ পরিদর্শক মজিদ বকুল। তার বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে এসআই মনির হোসেনকে। থানার কোনো পুলিশ সদস্যের করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তাকে প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু (দক্ষিণ) থানা ভবনে আইসোলেশনে রাখা হবে। আর আক্রান্ত হলে নিজ নিজ আবাসিক ভবনে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। ব্যারাকে থাকা সব সদস্য থানার পাশে সরকারি জাজিরা মোহর আলী উচ্চবিদ্যালয়ে থাকবেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অফিসার ও ফোর্সদের আবাসন অনুযায়ী ২২টি ক্লাস্টারে ভাগ করা হয়েছে। যাতে কোনো একজন আক্রান্ত হলে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণের সংখ্যা কম থাকে। আবাসন ক্লাস্টার ১-এ অবস্থান করবেন এসআই মনির হোসেন, ফরিদ মিয়া ও নজরুল ইসলাম। তারা থাকবেন থানা সংলগ্ন নিজস্ব বাসভবনে। ক্লাস্টার ২-এ থাকবেন এসআই ইকবাল হোসেন ও বাদল তালুকদার। তারা থাকবেন থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে পরিদর্শন ভবনে। এভাবে প্রতিটি ক্লাস্টারে দু-তিনজন করে পুলিশ সদস্য আলাদা জায়গায় থাকবেন। কোনো ক্লাস্টারের সদস্যরা কোনো সময় দায়িত্ব পালন করবেন সে ব্যাপারে রয়েছে আলাদা চার্ট। করোনা সরঞ্জাম কী পরিমাণ রয়েছে আর কী সংখ্যক মজুদ করা হয়েছে তা নির্দিষ্ট কর্মকর্তা তদারক করবেন। এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত পাঁচটি টহলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তা হলো, মোবাইল-২১, যাদের দায়িত্বে থাকা এলাকা জাজিরা পৌরসভা। মোবাইল-২২ এর এলাকা বড়কান্দি, সেনেরচর, বিকেনগর ও গোপালপুর ইউনিয়ন। মোবাইল-২৩ এর আওতায় পূর্ব নাওডোবা, পশ্চিম নাওডোবা ও ইউপি এলাকা। পেট্রোল-২১ এর এলাকা হচ্ছে জাজিরা পৌরসভা, বিলাশপুর, বড়কান্দি, পালের চর, মুলনা ও জয়নগর। আরেকটি হলো, মোবাইল-২১ (রাত্রিকালীন) টিম।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান দোলা সমকালকে বলেন, এ জেলায় দেড় লক্ষাধিক প্রবাসী রয়েছেন। এর মধ্যে নড়িয়া এলাকারই ৭০ হাজার জন। এখন পর্যন্ত এ জেলায় কোনো প্রবাসফেরতের মাধ্যমে করোনা সংক্রমিত হয়নি। যে ছয়জন সংক্রমিত হয়েছেন, তাদের কয়েকজন নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকাফেরত। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জেলায় একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদেশফেরত এবং ঢাকা ও নারায়ণঞ্জ থেকে আসা এক হাজার ৭১৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।
