ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

বন্ধু হয়ে অনেকেই কৃষকের পাশে

বন্ধু হয়ে অনেকেই কৃষকের পাশে
×

জয়নাল আবেদীন

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২০ | ১২:০০

চলতি মাসের শেষে পাহাড়ি ঢলের পূর্বাভাস রয়েছে। শিলাবৃষ্টিরও আশঙ্কা আছে। এ পরিস্থিতিতে বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে হাওরাঞ্চলে কৃষকের কপালে পড়ে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। তবে দুর্দিনে 'বন্ধু' হয়ে এগিয়ে এসেছেন অনেকেই। কোমরে গামছা বেঁধে কাঁচি হাতে জমিতে নেমেছেন সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক, ছাত্ররা। ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে নেমেছেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে কৃষকের দুশ্চিন্তা অনেকখানি কমেছে। কাটছে শঙ্কার মেঘ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার সারাদেশে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ লাখ ৬৬ হাজার হেক্টর। এ থেকে প্রায় দুই কোটি চার লাখ ৩৬ হাজার টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে সব রকম ধানের মোট উৎপাদন লক্ষ্যের ৫৩ শতাংশ। হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধু হাওরে নিচু এলাকায় ৪ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর।
কিশোরগঞ্জে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ছাইফুল আলম সমকালকে বলেন, হাওর অধ্যুষিত চারটি উপজেলায় বোরো আবাদ হয়েছে এক লাখ ৩ হাজার ২৪৫ হেক্টর। গতকাল সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৪৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। অন্তত ৮৫ হাজার কৃষিশ্রমিক ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত এখন। বাইরে থেকেও আট হাজারের মতো শ্রমিক এসেছেন। তিনি বলেন, প্রথম দিকে শ্রমিক সংকট ছিল। এখন তা নেই। শ্রমিক সংকট কাটলেও পাহাড়ি ঢলের যে পূর্বাভাস ছিল, তাতে নির্ধারিত সময়ে হাওরের সব ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। সেটি কেটে গেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এগিয়ে আসায়। এখন কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি বিভাগও মোটামুটি স্বস্তিতে।
কিশোরগঞ্জে প্রথমে ধান কাটার ঘোষণা দেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক। গত ৯ এপ্রিল তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কৃষকের ধান কাটতে মাঠে নামেন। মিঠামইন উপজেলার ঢাকি এবং চারিগ্রামে টানা দু'দিন তিনি ধান কাটেন। এতে এলাকার কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অন্য শ্রেণি-পেশার মানুষও উদ্বুদ্ধ হয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়ান।
এদিকে জামালপুরের ইসলামপুরে কৃষকদের ধান কেটে দিয়েছেন জামালপুর-শেরপুর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হোসনে আরা। গতকাল সোমবার ইসলামপুর পৌর শহরের রেলস্টেশন সংলগ্ন কৃষক হাসান আলীর জমির ধান কাটা ও মাড়াই কাজে অংশ নেন তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা।
হাওর অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের কুলাউড়া অংশে হাকালুকি হাওরে শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে পারছিলেন না কৃষক লেছু মিয়া। এ খবর শুনে ভূকশিমইল ইউনিয়নের ওই কৃষকের জমিতে ছুটে যান উপ?জেলা চেয়ারম্যান একেএম স?ফি আহমদ সলমান। গত রোববার তিনি ৩০ নেতাকর্মী নিয়ে ওই কৃষকের ধান কেটে দেন। সবাই ধান কেটে কৃষকের বাড়িতে পৌঁছে দেন।
সুনামগঞ্জে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সফর উদ্দিন সমকালকে বলেন, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সবার আগে প্লাবিত হয় সুনামগঞ্জের হাওর। এখানে কৃষকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা সবসময়ই থাকে।
এপ্রিলের শেষদিকে ঢল নামার পূর্বাভাস দিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক এলেও সংকট দূর হয়নি। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা ধান কাটার উদ্যোগ নেন। এখন কোনো সংকট নেই। পাহাড়ি ঢল নামার আগেই ধান কেটে ঘরে তোলার আশা করেন তিনি।
সারাদেশে উৎসবের সঙ্গে চলছে ধান কাটা। গাজীপুর, সাভার, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদীতেও কৃষকের পাশে বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা আছেন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, গোপালগঞ্জসহ দেশের নানা প্রান্তে সোনালি ফসল ঘরে উঠছে। কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে মাড়াই করা পর্যন্ত নানা দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা যাচ্ছে কয়েকদিন ধরে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি বিএনপি এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরও কৃষকের পাশে দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

×