জামিলুর রেজা চৌধুরীর কুলখানি অনুষ্ঠিত
জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২০ | ০০:৪৩
দেশের খ্যাতিমান প্রকৌশলী ও জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর কুলখানি শুক্রবার বাদ আসর মরহুমের ধানমন্ডির বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পরিবারের ঘনিষ্ট স্বজনরাই কেবল উপস্থিত ছিলেন।
মরহুমের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে পারিবারের বাইরে আর কাউকে কুলখানিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
দেশের বরেণ্য এই শিক্ষাবিদ গত সোমবার রাতে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। পরে মঙ্গলবার বাদ যোহর জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নিকটাত্মীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম শুক্রবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, বাদ আসর ধানমন্ডির বাসায় আত্মীয়স্বজনরা মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে রাজধানীর কয়েকটি এতিমখানায় খাবার বিতরণ করা হয়। সেখানে মরহুমের জন্য দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী এমন একজন বিনয়ী মানুষ ছিলেন, যিনি কখনোই চাইতেন না, উনার কারণে অন্য কেউ কোনো বিপদে পড়ুক। উনার সেই আদর্শের কথা মনে করেই খুব ছোট পরিসরে নিকটাত্মীয়দের উপস্থিতিতে কুলখানি অনুষ্ঠিত হয়।
মরহুম অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, তথ্য-প্রযুক্তিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। ২০১৮ সালের ১৯ জুন সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে যেসব বড় বড় ভৌত অবকাঠামো হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোতেই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯৩ সালে যাদের হাত দিয়ে বাংলাদেশের ইমারত বিধি তৈরি হয়েছিল জামিলুর রেজা চৌধুরী তাদের একজন। দেশের প্রথম মেগা প্রকল্প বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণে ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। আর এখন পদ্মার ওপরে দেশের সবচেয়ে বড় যে সেতু তৈরি হচ্ছে সেই প্রকল্পের আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেলেরও নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন তিনি। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেলসহ চলমান নানা উন্নয়ন প্রকল্পেও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত এই অধ্যাপক।