ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

করোনায় দেশে একমাসে প্লাস্টিক বর্জ্য সাড়ে ১৪ হাজার টন

করোনায় দেশে একমাসে প্লাস্টিক বর্জ্য সাড়ে ১৪ হাজার টন
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ মে ২০২০ | ০৯:৫৬ | আপডেট: ১০ মে ২০২০ | ০৯:৫৮

করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধিরও আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর একমাসেই উৎপাদিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য। এর মধ্যে শুধু ঢাকায় এর পরিমাণ তিন হাজার ৭৬ টন। মূলত সার্জিক্যাল মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস এবং স্যানিটাইজারের বোতল এই বর্জ্যের নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। ভূমিকা রেখেছে ত্রাণ বিতরণে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ব্যাগও।

এনভায়রমেন্ট অ্যান্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডোর এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার সকালে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্লাস্টিক বর্জ্যগুলোর বড় একটি অংশ যত্রতত্র ফেলার কারণে মাটি ও পানিতে মেশার মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়ে ভয়াবহভাবে গণসংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে পলিথিন ব্যাগের বর্জ্য পাঁচ হাজার ৭৯৬ টন, পলিথিন হ্যান্ডগ্লাভস তিন হাজার ৩৯ টন, সার্জিক্যাল হ্যান্ডগ্লাভস দুই হাজার ৮৩৮ টন, সার্জিক্যাল মাস্ক এক হাজার ৫৯২ টন এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল থেকে ৯০০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদন হয়েছে। ঢাকায় সর্বোচ্চ এক হাজার ৩১৪ টন সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভসের বর্জ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া রাজধানীতে পলিথিন হ্যান্ডগ্লাভস ৬০২ টন, সার্জিক্যাল মাস্ক ৪৪৭ টন, পলিথিন ব্যাগ ৪৪৩ ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল থেকে ২৭০ টন বর্জ্য উৎপাদন হয়েছে।

সংগঠনের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর অধ্যাপক আবু জাফর, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জিয়াউল হক, এসডো'র মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির মহাসচিব ও বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ন কবির বুলবুল, এসডো'র নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার সাইদা মেহরাবীন সেঁজুতি ও প্রজেক্ট অ্যাসোসিয়েট নাজমা আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এখনই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব না দিলে জীবাণুর ভয়াবহ বিস্তার ঘটতে পারে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার রহমান বলেন, 'উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্যের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে পরিবেশে। যা মাটি ও পানিতে মিশে চলে আসতে পারে মানুষের খাদ্যচক্রে। এতে জীবাণুর ভয়াবহ বিস্তার ঘটতে পারে, যা রূপ নিতে পারে গণসংক্রমণে। তাই এসব বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় সরকারকে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।'

জিয়াউল হক বলেন, 'এ মুহূর্তে কভিড-১৯ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের সংস্থাগুলো রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। নিয়মিত আলোচনা চলছে এবং এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর। যত্রতত্র এসব আবর্জনা না ফেলার ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।'

ত্রাণ বিতরণের কারণে পলিথিন বর্জ্য বেড়েছে জানিয়ে ত্রাণ কার্যক্রমে পলিথিন ব্যবহার না করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×