ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকৃতি

ভূঁইচাঁপার গল্প

ভূঁইচাঁপার গল্প
×

মোকারম হোসেন

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০১৯ | ১৩:০৪

দেশের মধ্যাঞ্চল অবধি বিস্তৃত শালবন যে কত শত প্রজাতির বৃক্ষ-লতা-গুল্মের স্বর্গরাজ্য, বিভিন্ন মৌসুমে সেখানে না গেলে উপলব্ধি করার সুযোগ নেই। যদিও শালবনগুলো এখন বিলুপ্তির শেষ প্রান্তে এসে ঠেকেছে। তবুও এই বন হাওরের মতোই নিয়ত পরিবর্তনশীল। এ কারণে শালবনের সৌন্দর্য প্রায় বর্ষব্যাপ্ত। সেখানে সব ঋতুতেই আমাদের জন্য অপেক্ষা করে কোনো না কোনো নতুন পুষ্প-বৃক্ষ বা তৃণ-বিরুৎ। প্রতিটি শালবনই প্রকৃতির বিস্ময়কর এক অফুরন্ত ভান্ডার যেন। ২০১৭ সালের ১৫ এপ্রিল গাজীপুরের পাঁচপীরের মাজার এলাকায় গিয়েছিলাম বনখেজুরের ছবি তুলতে। খুঁজে পেতে খানিকটা সময় লাগল। যখন নিমগ্নচিত্তে বনখেজুরের ছবি তুলছি, তখন বৃক্ষপ্রেমী যায়েদ আমীন একটি ফুল দেখার আমন্ত্রণ জানালেন। মাটি থেকে মাত্র হাতখানেক উচ্চতায় ফুটেছে ফুলটি। প্রথমে ভেবেছিলাম কনকচাঁপা। কিন্তু ভালোভাবে খুঁটিয়ে দেখি, কনকচাঁপার সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও বৈসাদৃশ্য অনেক। ফুলটি আগে কখনও দেখিনি। তাহলে পরিচয় কী হতে পারে? আশপাশে আরও খুঁজলাম। নাহ, আর কোনো গাছ নেই। বিচ্ছিন্নভাবে একটিমাত্র গাছ কোথা থেকে এলো, তাও ভেবে দেখার বিষয়। ঢাকায় এসে গাছটির পরিচয় শনাক্ত করতে চেষ্টা করি। খুঁজতে খুঁজতে পেয়েও যাই।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত 'উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ' গ্রন্থের তথ্যমতে গাছটির নাম ভূঁইচাঁপা (Ochna pumila)। তবে সেখানে কোনো ফটোগ্রাফ ব্যবহূত হয়নি। হাতে আঁকা একটি ছবি আছে। তাও আবার ফ্লোরা অব ওয়েস্ট বেঙ্গল গ্রন্থ থেকে সংকলিত। সেখানে মন্তব্য করা হয়েছে, গাছটি বর্তমানে দুর্লভ। ভূঁইচাঁপা

১৮২৪ সালে প্রথম শনাক্ত করেন স্কটিশ চিকিৎসক ও উদ্ভিদবিদ ফ্রান্সিস ব্যুচানন-হ্যামিল্টন। এটি গুল্ম শ্রেণির গাছ, ১ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতা দেড় থেকে ৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা, গোড়ার দিক ক্রমশ সরু এবং খর্বাকার বৃন্তবিশিষ্ট, শীর্ষ তীক্ষষ্ট ও ধারালো ধরনের। একটি মঞ্জরিদণ্ডে ৩ থেকে ৬টি ফুল থাকতে পারে, পুষ্পবৃন্ত ২০ সেন্টিমিটার লম্বা। বৃত্যংশগুলো ডিম্বাকৃতির, দৈর্ঘ্যে পাপড়ির ২ থেকে ৩ ভাগের একভাগ। ফুলের রং হলুদ-সোনালি। পাপড়ি সংখ্যা ৪, কিনারা অসমান। প্রস্ম্ফুটনকাল এপ্রিল থেকে জুন। সাঁওতাল ও ওঁরাও আদিবাসীরা ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে গাছটির শিকড়ের পেস্ট ব্যবহার করে। আবার ডায়াবেটিস চিকিৎসায়ও আদিবাসীরা শিকড়ের কস্ফাথ ছাগলের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করে। আমাদের দেশে সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামে এ গাছ দেখা যায়। এরা কনকচাঁপার আত্মীয়।

আরও পড়ুন

×