ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

ঝুঁকি নিয়েই সম্মুখ যুদ্ধে

ঝুঁকি নিয়েই সম্মুখ যুদ্ধে
×

প্রতীকী ছবি

রাজবংশী রায়

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৫ মে ২০২০ | ১৪:৩০

করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় দেশের প্রথম ডেডিকেটেড হাসপাতাল রাজধানীর উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল। করোনা সংক্রমিতদের এ হাসপাতালেই চিকিৎসার জন্য পাঠানো হতো। শুরুর দিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে ভয়ে ছিলেন হাসপাতালটির চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ ছিল রোগী ও তাদের স্বজনদের। চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগে কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এর নিষ্পত্তি হয়। সে অবস্থা কাটিয়ে বর্তমানে হাসপাতালটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা চলছে পুরোদমে। শুরুতে প্রায় একই চিত্র ছিল রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালেরও। এটি দেশের দ্বিতীয় করোনা ডেডিকেটেড হাসাতাল। প্রায় দেড় মাস ধরে ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের একটি অংশসহ আরও কয়েকটি হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড করা হয়।

এসব হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত আছেন তিন সহস্রাধিক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী। চিকিৎসা দিতে গিয়ে সারাদেশে দেড় হাজারের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীও আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে তিন চিকিৎসকের। এ নিয়ে প্রথমে তাদের ভেতর কিছুটা ভীতি কাজ করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা অনেকটাই কেটে গেছে। এখন তারাই করোনা প্রতিরোধের যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

করোনা সংক্রমিতদের মধ্যে যারা অন্যান্য রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত, তাদের কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কারও মৃত্যু হলে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যেমন কষ্ট পান, তেমনি কেউ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে তারা আনন্দিত হন। আক্রান্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও সুস্থ হয়ে অনেকে কাজে ফিরেছেন। অনেকে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের হাত ধরেই বাঁচবে হাজারো প্রাণ। করোনাযুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রোগীর পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা। করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে তারা সমকালের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন।

মায়ের অনুপ্রেরণায় করোনা হাসপাতালের দায়িত্ব নিয়েছেন ডা. আসাদুজ্জামান : কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে আইসিইউ বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন ডা. মুহম্মদ আসাদুজ্জামান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আসাদুজ্জামানকে করোনা ডেডিকেটেড এই হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব দিয়ে পদায়ন করা হয়। সেখানে পদায়নের পর তার পরিবারে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে তার মা অনুপ্রেরণা দেন। তিনিও একজন চিকিৎসক। মায়ের অনুপ্রেরণার কথা তুলে ধরে ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, বিপদের বিষয়টি জানা সত্ত্বেও আমার মা কাজটি করতে আমাকে উৎসাহিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'তুমি একজন চিকিৎসকের সন্তান এবং একজন চিকিৎসক। সুতরাং তোমার ভয় পেলে চলবে না। বিশেষ প্রয়োজনে আমিও মানুষের সেবা করেছি। আল্লাহ তোমাকে দেখবেন।'

মায়ের এই অনুপ্রেরণাই বদলে দেয় আসাদুজ্জামানের মনোজগৎ। এ ছাড়া তার মনে প্রশ্ন জাগে, করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী যদি তারই মা, বাবা, ভাই, বোন, স্ত্রী কিংবা সন্তান হতেন তাহলে তিনি কী করতেন? এ প্রশ্নটিও তাকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে সাহস জোগায়। মায়ের পর তার স্ত্রী স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. চৌধুরী তাসলিমা নাসরিনের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মার্চের প্রথম সপ্তাহে তিনি হাসপাতালটির আইসিইউ বিভাগের দায়িত্ব নেন। এরপর পরিবার থেকে দূরে আছেন। ডা. আসাদুজ্জামান জানান, তার দুই সন্তানই ছোট। বাবাকে কাছে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ থেকে তারা করোনাভাইরাসকে তাড়িয়ে দিতে বলে।

ডা. আসাদুজ্জামান জানান, দুই সহকর্মীকে নিয়ে ১১ মার্চ তিনি প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা শুরু করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও সহকর্মী রোগীর সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন। এটি ছিল তার জন্য একটা বিশেষ মুহূর্ত। তবে ডা. আসাদুজ্জামানের বিপরীতধর্মী অভিজ্ঞতাও আছে। একদিকে করোনা আক্রান্ত হয়ে তার সহকর্মীর মৃত্যু দেখেছেন, অন্যদিকে কিডনি ও হৃদরোগসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতা নিয়েও অনেক রোগীকে সুস্থ হতে দেখেছেন। তিনি বলেন, মুমূর্ষু কোনো ব্যক্তি আইসিইউ থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে দেখলে সবচেয়ে বড় স্বস্তি পান। মনে হয়, চিকিৎসক হিসেবে জীবনে এর চেয়ে সুখের আর কিছু হতে পারে না। করোনা প্রতিরোধ করেই তিনি ঘরে ফিরতে চান।

কেউ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে সবচেয়ে আনন্দ পান ডা. শাহজাদ : কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. শাহজাদ হোসেন। তিনি ডা. আসাদুজ্জামানের মতোই শুরুর দিকে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলেন। তার স্ত্রীও একজন চিকিৎসক। দুই ছেলের একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যয়নরত। ছোট ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। চিকিৎসক পরিবার হওয়ার কারণে অন্যদের মতো তাদের পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে খুব সময় লাগেনি। ডা. শাহজাদ হাসপাতালে কাজ শেষে নিজের বাসায় ফিরছেন নিয়মিত। বাসায় পরিবারের প্রত্যেকের জন্য পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে। ডা. শাহজাদ বলেন, তিনি পরিবারের অন্য সদস্যের কাছ থেকে পুরোপুরি আইসোলেশনে থাকছেন। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে নিজের কক্ষে প্রবেশ করে নিয়ম মেনে হাত ধুয়ে ফেলেন। তার থালাবাসনও আলাদা। নিজের জামা-কাপড় নিজেই পরিস্কার করেন। তার স্ত্রীও একই কাজ করেন। পরিবারের সবাই বাসায় নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলেন।

সহকর্মীদের অনেকের সমস্যা হচ্ছে উল্লেখ করে ডা. শাহজাদ হোসেন বলেন, অনেক সহকর্মীর শিশুসন্তান রয়েছে। তারা বাবা-মায়ের কাছে আসতে চায়। কিন্তু তাদের বাইরে অবস্থান করতে হচ্ছে। এটি অনেক কষ্টকর। ডা. শাহজাদের পরামর্শ- রোস্টার পদ্ধতিতে পর্যায়ক্রমে অন্যদের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে কাজের ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হতো।

ডা. শাহজাদ আরও বলেন, একজন চিকিৎসক সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করে রোগীকে সুস্থ করে তুলতে চান। কোনো চিকিৎসকই রোগীর মৃত্যু কামনা করেন না। কিন্তু অনেক সময় শারীরিক অন্যান্য জটিলতার কারণে রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয় না। তাদের হাসপাতালে এক অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ওঠে। এরপর ওই বিষয় তুলে ধরে ফেসবুকে তিনি একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শাহজাদ বলেন, এ নিয়ে তিনি আর কথা বলতে চান না। এমনকি স্ট্যাটাসটিও সরিয়ে ফেলেছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চিকিৎসক জানান, ওই সরকারি কর্মকর্তার চিকিৎসার সব ব্যবস্থাই তারা নিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তাকে আইসিইউতে নিতে চাইছিলেন না। একইভাবে কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটে নিয়ে ডায়ালাইসিসেও তাদের আপত্তি ছিল। কারণ ওই দুই ওয়ার্ডেই করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছিল। এসব সেবা নিতে তারা করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু করোনা রিপোর্ট আসার আগেই ওই কর্মকর্তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসক নিজেই আক্রান্ত : রাজধানীর মুগদা হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড করার পর রোগীদের চিকিৎসায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সুদীপ রঞ্জন দেব। করোনা ওয়ার্ড সামলানোর পাশাপাশি সহকর্মীদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন। এই কাজ করতে গিয়ে তিনি নিজেই আক্রান্ত হন। বর্তমানে তিনি বাসায় আইসোলেশনে আছেন। ডা. সুদীপ রঞ্জন দেব জানান, রোগীদের চিকিৎসা দিতে দিতে কোন সময় যে নিজেই আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন, তা বুঝতে পারেননি। কিছু উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তিনি ও তার কয়েকজন সহকর্মী নমুনা পরীক্ষা করেন। এতে তিনিসহ তিনজনের করোনা পজিটিভ আসে।

শেষ পর্যন্ত রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকবেন তারা : এই হাসপাতালের করোনা সেলের মুখপাত্র সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান। সমকালকে তিনি বলেন, তাদের হাসপাতালের সব চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্র্মী মিলে একটি টিম হিসেবে রোগীর সেবা নিশ্চিত করছেন। ঝুঁকির কথা জেনেও সবাই এগিয়ে এসেছেন।

করোনা সেলের সভাপতি হাসপাতালের নাক কান গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ বলেন, করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত হাসপাতালের প্রত্যেক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য পৃথকভাবে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোস্টার পদ্ধতিতে সবার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। রোস্টার মেনে সবাই রোগীর সেবা নিশ্চিত করছেন। দু-একজন সহকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু কেউ মনোবল হারাননি। আরও উদ্যম নিয়ে রোগীর পাশে থাকতে চান চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এক চিকিৎসক পরিবারে আক্রান্ত ৯ জন : ঢাকা মেডিকেল কলেজে গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. লুৎফা বেগম লিপি। হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে এক প্রসূতির অস্ত্রোপচার হয়েছিল। পরে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ আসে। ওই রোগীর সংস্পর্শে ছিলেন ডা. লিপি। এরপরও তিনি প্রতিদিন হাসপাতালে কাজ করে আসছিলেন। সন্দেহ থেকে নমুনা পরীক্ষাও করেন। কিন্তু তা নেগেটিভ আসে। এরই মধ্যে ঢামেক হাসপাতালের একটি অংশকে করোনা ডেডিকেটেড করা হয়। ডা. লিপিকেও ওই চিকিৎসক দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দায়িত্ব পালনের ১৪ দিন পার করার পর তিনি নির্ধারিত হোটেলে আইসোলেশনে ছিলেন। এর মধ্যে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে করোনার উপসর্গের খবর পেয়ে ছুটে যান বাসায়। পরিবারের ১১ সদস্যের সবার নমুনা পরীক্ষার পর স্বামী ও ছেলে ছাড়া বাকি ৯ জনের পজিটিভ আসে। তার স্বামী ডা. মিজানুর রহমানও একজন চিকিৎসক। নিজেসহ পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি।

চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিসাব রাখছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে সারাদেশে এক হাজার ৫৫৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসক ৫৯৪, নার্স ৪০২ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী ৫৫৯ জন। বিএমএ মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনাযুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার ঘোষণা এবং তা বাস্তবায়নে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উজ্জীবিত।

ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী আরও বলেন, শুরু থেকেই বলে আসছি যে, নিম্নমানের পিপিই, মাস্ক সরবরাহ করে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। শুরু থেকে এসব বিষয়ে নজর দিলে এতসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হতেন না। এই নিম্নমানের পিপিই ও মাস্কের কারণেই চিকিৎসকরা শুরুতে চিকিৎসার বিষয়ে একটু আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা পুরোপুরিভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। আশা করি, তাদের হাত ধরেই দেশ করোনামুক্ত হবে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেন, বর্তমানে করোনার পিকটাইম চলছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আগে প্রতিদিন এক হাজার নমুনা পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম। শুক্রবার সাড়ে আট হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এটিকে আমরা ১৫ হাজারে নিয়ে যেতে চাই। প্রতিদিনই নতুন নতুন ল্যাবে পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনা করে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বড় বড় দেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ওইসব দেশের তুলনায় এখনও আমাদের পরিস্থিতি ভালো। আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। নতুন করে আরও দুই হাজার চিকিৎসক ও পাঁচ হাজারেরও বেশি নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা এরই মধ্যে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে যোগদান করেছেন। এই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হাত ধরেই বাংলাদেশ করোনামুক্ত হবে।

আরও পড়ুন

×