১০ নভেম্বরের মধ্যে মুন সিনেমা হলের রেজিস্ট্রি সম্পন্নের নির্দেশ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ০২:১০
ঢাকার ওয়াইজঘাটে মুন সিনেমা হলের জমি ও স্থাপনার রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া ১০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্নের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দিয়ে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মুন সিনেমা হলের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। সঙ্গে ছিলেন
অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ মামুন।
গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ৩০ জুনের মধ্যে ৯৯ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪ টাকা ২৭ পয়সা পরিশোধে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সরকার টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকে। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের সমঝোতার পর আপিল বিভাগ জমি রেজিস্ট্রির নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে এক সময়ের মুন সিনেমা হলের মূল মালিক ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই সম্পত্তি 'পরিত্যক্ত' ঘোষণা করা হয় এবং পরে শিল্প মন্ত্রণালয় ওই সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ন্যস্ত করে। ইটালিয়ান মার্বেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলম ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করলেও বিষয়টি আটকে যায়। এরপর ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান একটি সামরিক ফরমান ঘোষণা করেন, যাতে বলা হয়, সরকার কোনো সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে আদালতে তা চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। মুন সিনেমা হলের সম্পত্তিও এর আওতায় পড়ে যায়। কিন্তু ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস এরপর ২০০০ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে, যেখানে সংবিধানের ওই পঞ্চম সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করা হয়। ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায় দেন।
রায়ে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর খন্দকার মোস্তাক আহমদ, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ সংবিধান-বহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের দেওয়া ওই রায় বহাল রাখেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে মুন সিনেমা হলের মালিক ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডকে ফেরত দিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এরপর দীর্ঘদিনেও মালিকানা ফিরে না পেয়ে ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি ইটালিয়ান মার্বেল কর্তৃপক্ষ তৎকালীন ভূমি সচিবসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দাখিল করে। ওই অভিযোগের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ সিনেমা হলের জমি, স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দিয়ে সম্পত্তির মূল্য ৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
পরে আপিল বিভাগ ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি এক আদেশে ক্ষতিপূরণসহ ভবন ও জমির মূল্য বাবদ ৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকা পরিশোধ করতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতি নির্দেশ দেন।
- বিষয় :
- মুন সিনেমা হল