হাতখরচের টাকা বাঁচিয়ে অসহায়দের পাশে ২৫ শিক্ষার্থী
ইন্দ্রজিৎ সরকার
প্রকাশ: ২১ মে ২০২০ | ০৮:৪৩ | আপডেট: ২১ মে ২০২০ | ১২:০১
২০১৯ সালে একসঙ্গে এইচএসসি পাস করা ২৫ ছাত্র-ছাত্রীর একটি দল। তারা বেশিরভাগই এখন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। বাকিরা ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেতে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
করোনাকালে তারা আছেন নিজেদের গ্রামের বাড়িতে। খুব কাছে থেকেই দেখছেন কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট। তাদের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করেন সবাই। তবে তারা কেউই উপার্জন করেন না। শেষে বাবা-মার কাছ থেকে পাওয়া 'হাতখরচে'র টাকা দিয়েই সহায়তার উদ্যোগ নেন। এরপর ময়মনসিংহ সদর ও তারাকান্দা উপজেলার দু'টি গ্রামের কিছু মানুষকে দেওয়া হয় চাল-ডাল-আলু-তেলের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।
শিক্ষার্থীদের দলটির সমন্বয়কারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও ভাষাসাহিত্য বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র নাহিদুজ্জামান বাদশা সমকালকে জানান, ময়মনসিংহ সদরের পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বাগাডোবায় তার গ্রামের বাড়ি। এর পাশের গ্রাম ঢাকিরকান্দা পড়েছে তারাকান্দা উপজেলায়। এই দুই গ্রামের অনেক ছাত্র-ছাত্রী একসঙ্গে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছেন। এমন একটিল রয়েছে তাদের, সবাই পরস্পরের বন্ধু। লেখাপড়ার কারণে কিছুদিন আগে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও করোনাকালে আবার ফিরেছেন নিজেদের গ্রামে। তারাই সমন্বিতভাবে নিয়েছেন সহায়তার এ উদ্যোগ।
তিনি বলেন, 'করোনার কারণে আমার এলাকার অভাবী মানুষদের অবস্থা খুবই খারাপ। তারা কোনো সরকারি সাহায্য পাননি। আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবক কমিটির লোকদের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেছি। তারা জানালেন, তালিকা পাঠানো হয়েছে, এখনও কোনো ত্রাণ আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে তারা কিছু করতে পারছেন না। ফলে আমি নিজেই উদ্যোগী হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। সবাই হাতখরচের টাকা দিয়ে সহায়তা করতে রাজি হলো। এরপর সবার টাকা একত্রিত করে ৬৫টি পরিবারকে খাদ্যপণ্য কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সম্প্রতি ঢাকিরকান্দা ও বাগাডোবা গ্রামে তিন দিন ধরে খুঁজে খুঁজে শুধু অতি রিদ্ররে এই সহায়তা দেওয়া হয়। বৃদ্ধ, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, অসুস্থদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে সাহায্যপ্রার্থীদের এক স্থানে ডেকে নেওয়া বা ছবি তোলার মতো কিছু করা হয়নি। বরং সবার অগোচরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।'
বাদশা আরও বলেন, 'আমার আশেপাশের অনেক মানুষের অবস্থা যে এত খারাপ, তারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটান এটা আগে জানা ছিল না। সহায়তা দিতে গিয়ে মনে হয়েছে, যা দিচ্ছি তা কিছুই নয়। আরও বেশি মানুষকে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যপণ্য দিতে পারলে সত্যিকার অর্থে তাদের পাশে দাঁড়ানো হতো। কারণ আমরা যা দিয়েছি, তাতে হয়তো পাঁচনি চলবে। এরপর এই মানুষগুলো কী খাবে? শিগগিরই করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই আমরা চেষ্টা করব আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে আবারও তাদের পাশে দাঁড়াবার।'
বাদশার বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে যারা এই উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তারা হলেন- মোশারফ হোসেন, খালিদ হাসান উচ্ছ্বাস, কাওসার হামিদ, রাকিবুজ্জামান রাকিব, রুখসানা আক্তার বেলী, মারুফা আক্তার, তাসকী আক্তার, ইব্রাহিম খলিল, তানভীরুল ইসলাম নোমান, জোব্বার হোসেন প্রমুখ।