মুন সিনেমা হল: জমি ও স্থাপনা হস্তান্তরে ১০ নভেম্বরের মধ্যে রেজিস্ট্রি সম্পন্নের নির্দেশ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ০৫:৪৪
রাজধানীর পুরান ঢাকার আলোচিত মুন সিনেমা হলের জমি ও স্থাপনা হস্তান্তরের রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রোববার এই আদেশ দেন। এর আগে গত ১৮ আগস্ট মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে সরকারকে সমঝোতার প্রস্তাব দেয় মূল মালিক ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড।
প্রস্তাবে বলা হয়, আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিশনের সুপারিশ অনুসারে সম্পত্তির মূল্য বাবদ ৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকা পাওয়ার পর মুন সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ তাদের সম্পত্তি ও স্থাপনার মালিকানাসহ দখলস্বত মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নামে হস্তান্তর করবে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার জমি ও স্থাপনা হস্তান্তরের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে ইটালিয়ান মার্বেল কোম্পানির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি ও তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সাইফুল্লাহ মামুন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, পুরানো ঢাকার ওয়াইজঘাটে এক সময়ের মুন সিনেমা হলের মূল মালিক ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই সম্পত্তি 'পরিত্যক্ত' ঘোষণা করা হয় এবং পরে শিল্প মন্ত্রণালয় ওই সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ন্যস্ত করে। ইটালিয়ান মার্বেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলম ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করলেও বিষয়টি আটকে যায়। এরপর ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান একটি সামরিক ফরমান ঘোষণা করেন, যাতে বলা হয়, সরকার কোনো সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে আদালতে তা চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। মুন সিনেমা হলের সম্পত্তিও এর আওতায় পড়ে যায়। কিন্তু ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস এরপর ২০০০ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে, যেখানে সংবিধানের ওই পঞ্চম সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করা হয়। ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায় দেন।
রায়ে পচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমদ, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ সংবিধান-বহির্ভুত ও বেআইনি ঘোষণা করা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের দেওয়া ওই রায় বহাল রাখেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে মুন সিনেমা হলের মালিক ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডকে ফেরত দিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এরপর দীর্ঘদিনেও মালিকানা ফিরে না পেয়ে ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি ইটালিয়ান মার্বেল কর্তৃপক্ষ তৎকালীন ভূমিসচিবসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দাখিল করে। ওই অভিযোগের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ সিনেমা হলের জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দিয়ে সম্পত্তির মূল্য ৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে জমি ও স্থাপনা হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে।
- বিষয় :
- মুন সিনেমা
- সুপ্রিম কোর্ট