লঞ্চের ধাক্কায় পা কর্তন: শিশু জাইমার চিকিৎসায় ৩ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:২২
ফতুল্লা লঞ্চঘাটে এমভি ইয়াদ লঞ্চের ধাক্কায় পায়ের পাতা কাটা পড়া আট বছর বয়সী শিশু জাইমা নেওয়াজের চিকিৎসায় তার পরিবারকে ১৫ দিনের মধ্যে তিন লাখ টাকা দিতে লঞ্চ মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ওই শিশুটির পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করা হয়েছে।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আনিসুল হাসান ও শাহীনুজ্জামান শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর ছয় বছরের শিশুকন্যা জাইমা, বাবা জামাল গাজী, মা নাজমুন নাহার ও ভাই খাজা গরীবে নেওয়াজের সঙ্গে ঢাকা থেকে বরগুনার আমতলীতে যাওয়ার উদ্দেশে ফতুল্লা লঞ্চঘাটে আসেন। এমভি ইয়াদ লঞ্চটি ফতুল্লা ঘাটে এসে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে লঞ্চ ও পন্টুনের মাঝখানে শিশু জাইমার ডান পা আটকে যায়। এতে তার পায়ের পাতার সন্মুখভাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক শিশু জাইমাকে উদ্ধার করে ঢাকা জেনারেল অ্যান্ড অর্থোপেডিকস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে ২১ দিন চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে বাসায় নিয়ে আসে তার পরিবার। এ ঘটনায় শিশু জাইমার বাবা জামাল গাজী বাদী হয়ে গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি লঞ্চ মালিক মামুন অর রশিদসহ ছয়জনকে আসামি করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর থেকে শিশুর বাবা জামাল গাজীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য লঞ্চ মালিক ও তার লোকজন বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। এ পর্যায়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুর মা নাজমুন নাহার বাদী হয়ে মামলা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও শিশুটির বাবা হাইকোর্টে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে একটি রিট দায়ের করেন। রিটে শিশুটিকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত 'পালিয়ে বেড়াচ্ছে লঞ্চ দুর্ঘটনায় পা হারানো শিশু জাইমার পরিবার' শীর্ষক প্রতিবেদনও সংযুক্ত করা হয়। রোববার ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট।
- বিষয় :
- শিশু জাইমা
- হাইকোর্ট