দেশে ৪০ লাখ পরিবার ভূমিহীন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:৩৬
সারাদেশে ১১ দশমিক ৩৩ শতাংশ খানা বা পরিবারের আবাদযোগ্য নিজস্ব জমি নেই। সংখ্যায় এমন পরিবার আছে ৪০ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯টি। তবে আগের তুলনায় ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা কমে এসেছে। গ্রামীণ ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা এখন ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ১০ বছর আগে ছিল ১২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বর্তমানে গ্রামে ২৩ লাখ ২৩ হাজার ভূমিহীন পরিবার। ১০ বছর আগে ছিল ৩২ লাখ ৫৬ হাজার।
কৃষিশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদনে ভূমিহীন পরিবারের এই তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মোট ১৪টি বিষয়ে প্রাথমিক শুমারি করা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ১৩৪টি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে মূল প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথি ছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামীণ ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এই বিভাগের ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ পরিবারের আবাদযোগ্য জমি নেই। অন্যদিকে সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। এই বিভাগের ৫ দশমিক ০১ শতাংশ পরিবার ভূমিহীন। ২০০৮ সালের কৃষিশুমারিতে গ্রামীণ ভূমিহীন সবচেয়ে বেশি ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ ছিল ঢাকা বিভাগে। এবারের শুমারিতে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনে গ্রাম ও শহরের তথ্যের সঙ্গে আগের শুমারির তুলনা করা হয়নি। এর কারণ ব্যাখ্যায় বিবিএস বলেছে, ১৯৮৩ সালের প্রথম এবং '৮৪ সালের দ্বিতীয় কৃষিশুমারিতে পৌরসভার সংখ্যা ছিল ৭৯টি। পৌরসভার বাইরের এলাকাকে গ্রাম ধরা হতো। পরের শুমারিগুলোতে আরও পরিবর্তন আসে। এবারের শুমারিতে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৫৩টি পৌরসভা এবং বিভিন্ন সংরক্ষিত এলাকাকে শহর হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিবিএসের শুমারির মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। তিনি বলেন, বিবিএসের তথ্য নিয়ে প্রায়ই বিরোধ তৈরি হয়। এই শুমারিতে হাইব্রিড কৃষির তথ্য নেই। ছাদবাগান, ভাসমান কৃষির তথ্য নেই। ডাল ও তেলজাতীয় কৃষিপণ্যের তথ্যও অনপুস্থিত। এসব অসংগতি দূর করার পরামর্শ দেন তিনি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রইসউল আলম মণ্ডল বলেন, মাছসংক্রান্ত তথ্য নেই এই শুমারিতে। তথ্য-উপাত্ত না থাকলে এবং সঠিক না হলে এই শুমারি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী শুমারির ত্রুটি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ত্রুটি সংশোধন করা হবে। তবে শুমারিতে কোনো কৃত্রিম তথ্য আনা হয়নি। কৃত্রিম পরিসংখান আর হবে না। আরও পর্যালোচনার জন্য বিবিএস কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
শুমারির তথ্য অনুসারে কৃষি পরিবার কমেছে। আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক শূন্য ৫ একর বা তার বেশি হলে সেই পরিবারকে কৃষি পরিবার হিসেবে ধরা হয়। এবারের শুমারিতে এমন পরিবার পাওয়া গেছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪৫ হাজার।
২০০৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৭ হাজার। গত ১০ বছরে কৃষি পরিবারের সংখ্যা কমেছে ২ দশমিক ৯২ শতাংশ। শুমারিতে দেখা যায়, কৃষি পরিবার এখনও বরিশাল বিভাগেই বেশি। এই বিভাগে ৬৯ দশমিক ২৬ শতাংশ কৃষি পরিবার পাওয়া গেছে। আগের শুমারিতেও বরিশালে কৃষি পরিবারের সংখ্যা বেশি ছিল। তখন এ ধরনের পরিবার ছিল ৬৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আগের মতোই এবারের শুমারিতে কৃষি পরিবারের হার ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে। এবারের শুমারিতে ঢাকায় এই হার ৪৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগে এই হার ছিল ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যায় বিবিএস বলেছে, সারাদেশে দ্রুত নগরায়ণ হওয়ার ফলে কৃষি খাত ছেড়ে অনেকে অকৃষি খাতে যুক্ত হতে শুরু করেছে। এ কারণে ধীরে ধীরে কৃষি পরিবার, শ্রমিক ও ভূমিহীন কৃষক পরিবারের সংখ্যা কমছে।
শুমারিতে কৃষি শ্রমিক পরিবারের সংখ্যাও কমে আসার তথ্য পাওয়া গেছে। ৩০ দশমিক ২৯ শতাংশ কৃষি পরিবার পাওয়া গেছে। আগের শুমারিতে এ হার ছিল ৩৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। যে পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষিকাজ থেকে, সেই পরিবারকে কৃষি শ্রমিক পরিবার বলা হয়। কৃষি শ্রমিক পরিবারের সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ০৪ শতাংশ রংপুর বিভাগে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ০২ শতাংশ পরিবার ঢাকা বিভাগে।
শুমারি অনুযায়ী, দেশে এখন গরু-মহিষের সংখ্যা যথাক্রমে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫ এবং ৭ লাখ ১৮ হাজার ৪১১টি। ছাগলের সংখ্যা ১ কোটি ৯২ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩টি। হাঁস-মুরগির সংখ্যাও তুলে আনা হয়েছে। প্রায় ১৯ কোটি মুরগি এবং সাত কোটির মতো হাঁস আছে। অন্যান্য প্রাণীর পরিসংখ্যানও শুমারিতে তুলে আনা হয়।
- বিষয় :
- ভূমিহীন