ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার লোকমান ও সেলিমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

এবার লোকমান ও সেলিমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ১১:১০ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ১১:১২

বেআইনি ক্যাসিনো ব্যবসা, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বিসিবির পরিচালক মো. লোকমান হোসেন ভূঁইয়া এবং অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ও জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড প্রিন্টিং পেপার্সের মালিক মো. সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে লোকমানের বিরুদ্ধে ১৫ নম্বর মামলা ও উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে ১৬ নম্বর মামলা করেন। রোববার কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ আলাদাভাবে দায়ের করা হয় মামলা দুটি।

এজাহারে লোকমানের বিরুদ্ধে চার কোটি ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ৬৪৮ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে ১২ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার ৭৫৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

লোকমানের অবৈধ সম্পদ: এজাহারে বলা হয়, অনুসন্ধানে লোকমানের নামে ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। তার আয়কর নথিতে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে তার নিজ নামে ৭৩ লাখ ৭০ হাজার ৬৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে প্রাইজবন্ড ক্রয়ে তিন লাখ ৮০ হাজার, গাড়ি ক্রয়ে ব্যয় ১৫ লাখ এবং হাতে ও ব্যাংকে নগদ গচ্ছিত ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৪ টাকাসহ মোট ৭৩ লাখ ৭০ হাজার ৬৬৪ টাকা অর্জনের ঘোষণা দেন। এই টাকার উৎস সম্পর্কে নথিতে কিছু বলা হয়নি।

এ ছাড়া ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, এইচএসবিসি, এনবিএল ও অগ্রণী ব্যাংকে বিভিন্ন মেয়াদে ১৭টি সঞ্চয়ী হিসাবে (এফডিআর) দুই কোটি ৯৬ লাখ ২৮ হাজার ৯৮৪ টাকার প্রমাণ মিলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, লোকমান তার আয়কর নথিতে ৭৩ লাখ ৭০ হাজার ৬৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ ছাড়াও নিজ নামে ও তার স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে যৌথভাবে আরও দুই কোটি ৯৬ লাখ ২৮ হাজার ৯৮৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছেন। যাচাই করে দুই কোটি ৯৬ লাখ ২৮ হাজার ৯৮৪ টাকার কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।

সেলিম প্রধানের অবৈধ সম্পদ: এজাহারে বলা হয়, সেলিম প্রধানের ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের আয়কর নথি অনুসারে তার নিজ নামে ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬১৮ টাকার অস্থাবর ও ২০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া পায়। এর মধ্যে পরিচালক হিসেবে শেয়ারে বিনিয়োগ চার কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার, এফডিআরে ছয় কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার, সঞ্চয়পত্রে ৭৬ লাখ ৬২ হাজার, হাতে নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত ছয় লাখ ২৮ হাজার ৬১৮ টাকাসহ সর্বমোট ১১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬১৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ ও ২০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে তার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ১৩৬ টাকার তথ্য পাওয়া যায়। এই হিসাব অনুযায়ী সেলিম প্রধানের স্থাবর-অস্থাবর মোট ১২ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার ৭৫৪ টাকার সম্পদের প্রমাণ মিলেছে। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ প্রিন্টিং অ্যান্ড পেপার্স ও অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আয়-ব্যয়ের হিসাব সঠিকভাবে আয়কর নথিতে প্রদর্শন না করে রাজস্ব ফাঁকিসহ আয়ের উৎস গোপন করেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, সেলিম প্রধান অনলাইন ভিত্তিক অবৈধ ক্যাসিনোর মূল গডফাদার। তিনি থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে অবৈধ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা চালিয়ে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে তা দিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি ২০১৮ সালে মার্কেট পি-২৪ লি. নামে অবৈধ গেমিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ওয়েবসাইটে যার অফিস ঠিকানা- ১১/এ রোড নং-৯৯, গুলশান-২, ঢাকা ও করপোরেট অফিসের ঠিকানা- ডি-১, মমতাজ ভিশন, রোড-৯৯(১১/এ), গুলশান-২, ঢাকা।

সেলিম প্রধান রূপালী ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে একশ' কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ঋণখেলাপি হয়েছেন মর্মে জানা যায়। তার বৈধ আয়ের কোনো উল্লেখযোগ্য উৎস নেই। তিনি অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসাসহ অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থ দিয়ে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিদেশে অর্থের তথ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে তার।

আরও পড়ুন

×