আবরার হত্যা: পিটিয়ে তথ্য বের করার নির্দেশ দেন সেতু
আবরার ফাহাদ- ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ০৮:৩৬
আবরার ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ধরে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে সেখানে গিয়েছিলেন পাশের কক্ষের বাসিন্দা এস এম মাহমুদ সেতু। জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'কী হয়েছে এখানে?' জুনিয়র কয়েকজন ছাত্র তাকে জানায়, 'শিবির ধরা হয়েছে।' এরপর সেতু বলেন, 'পিটা, হলে আর কারা শিবির আছে, ওকে (আবরার) পিটিয়ে সব তথ্য বের কর।'
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যায় এমন ভূমিকা পালন করেছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪তম ব্যাচের ছাত্র এস এম মাহমুদ সেতু। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রে এ তথ্য মিলেছে।
গত রোববার গ্রেপ্তারের পর সোমবার আদালতে হাজির করে সেতুকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে তদন্ত সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বছরের এপ্রিলে তার শিক্ষাজীবন শেষ হলেও তিনি শেরেবাংলা হলের ২০১২ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে থাকতেন। সেখানে থেকেই মানিকগঞ্জে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবরার হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সবার চেয়ে মাহমুদ সেতু সিনিয়র। ঘটনার রাতে ২০১২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন তিনি। আবরারকে তার পাশের কক্ষে ধরে নেওয়ার পর চিৎকার শুনে তিনি ওই কক্ষে যান। ঘটনা জানতে চান। ওই সময়ে জুনিয়র ছাত্ররা তাকে জানিয়েছিল- শিবির সন্দেহে আবরারকে ধরে আনা হয়েছে। কিন্তু সে কোনো তথ্য দিচ্ছে না। ওই সময় সেতু আবরারকে পেটানোর নির্দেশ দিয়ে চলে যান। ওই মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ২০ আসামির মধ্যে বেশ কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছে। এরপর ওই তথ্যের সত্যতা যাচাই করে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, 'আবরার হত্যা মামলার এজাহারে মাহমুদ সেতুর নাম ছিল না। কিন্তু অন্যান্য আসামির জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তিগত তদন্তে ওই হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা মিলেছে। সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ পেয়েই তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার রিমান্ড পাওয়া গেছে। এখন হত্যাকাণ্ডে তার ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন তদন্ত কর্মকর্তারা।'
এদিকে, সোমবার সেতুকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে সেতুর আইনজীবী তার জামিন আবেদন করে বলেন, 'এই আসামি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি ঘটনার সময় বুয়েট ক্যাম্পাসে থাকলেও ঘটনা তিনি জানতেন না। তিনি বুয়েটের সাবেক ছাত্র।'
গত ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে তড়িৎ কৌশল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র আবরার ফরহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ ১৯ আসামির নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। তদন্ত সংস্থা ডিবি পুলিশ এখন পর্যন্ত এজাহার ও এর বাইরে মিলিয়ে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিদের প্রায় সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
- বিষয় :
- আবরার ফাহাদ হত্যা
- বুয়েট