আহ্ছানউল্লা ইউনিভার্সিটির ভিসির পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:৪০
স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি কাজী শরিফুল আলমের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সব ভবনে তালা ঝুলিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ভারপ্রাপ্ত হিসেবে পদে আসার পর থেকে নানারকম স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছেন উপাচার্য। উপাচার্য পদে ভারপ্রাপ্ত থাকাবস্থায় উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ পাঁচটি পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে রয়েছেন তিনি। উপাচার্যের পদত্যাগের পাশাপাশি তার সময়ে নেওয়া সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিও করছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের ৯ দফার মধ্যে আরও রয়েছে- ভারপ্রাপ্ত ভিসির দায়িত্বকালে নেওয়া সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিল; তার জন্য ১০ 'সিনিয়র ফ্যাকাল্টি'কে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হয়েছে, তাদের সসম্মানে ফিরিয়ে আনা; সেমিস্টার বাবদ নেওয়া অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে তা কর্তৃপক্ষকে জানানো; ক্লিয়ারেন্সে টাকা দেওয়ার নতুন নিয়ম বাতিল ও 'ক্যারি ক্লিয়ারেন্সে' সর্বোচ্চ সিজিপিএ-৩ করা; ইউনিভার্সিটিতে অ্যালাইমনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনে সম্মতি দেওয়া; সেমিস্টারে এস্টাবলিশমেন্ট ও ডেভেলপমেন্ট ফি নেওয়া হলেও তার সব সুবিধা দেওয়া হয় না, এ সুবিধা নিশ্চিত করা; ল্যাব সুবিধা, ক্লাসরুম উন্নয়ন, ওয়াশরুম সংস্কার, নিরাপত্তা জোরদার, ক্যান্টিনের খাবার ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা; যাতায়াত ব্যবস্থা ও গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো; বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন গঠনের অনুমতি দেওয়া, যেখানে প্রতিনিধিত্ব করবেন বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
৯ দফার মধ্যে নতুন করে একাডেমিক ক্যালেন্ডার বর্তমান সেমিস্টার রুটিনের আদলেই তৈরি করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং সাংস্কৃৃতিক ও প্রগতিশীল কর্মকাণ্ডকে ক্যাম্পাসে সহজ ও সাবলীল করার লক্ষ্যে 'র্যাগ ফেস্ট'সহ সব ধরনের সাংস্কৃৃতিক আয়োজন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের দাবি জানানো হয়েছে।
এসব দাবিতে সোমবারই বিক্ষোভ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এসএম শাহরিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, 'দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো ধরনের ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেব না।'
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।