ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাবিতে সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে ২ শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছনার অভিযোগ

জাবিতে সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে ২ শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছনার অভিযোগ
×

হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা— সমকাল

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০১৯ | ০৯:৫৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উপাচার্য অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত দুই শিক্ষার্থীকে এক সহকারী প্রক্টর লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

এদিকে বুধবার চলমান ধর্মঘটে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ ছাড়া এদিন উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন 'অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর'-এর পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রা কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

হামলা ও লাঞ্ছিতের বিষয়ে জাবি চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, 'অবরোধ ও ধর্মঘটের সমর্থনে সকালে পুরোনো কলাভবনের সামনে অবস্থান নিই। সাড়ে ১০টার দিকে কিছু উত্তেজিত শিক্ষার্থী এসে আমাকে ধরে টানতে থাকে। এ সময় সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল স্যারও (নাট্য ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক) এসে আমাকে ঘাড় ও কলার ধরে জোরে টানতে থাকে। এতে প্রথমে আমি গেটের সঙ্গে হাতে আঘাত পাই। পরে স্যার ঘাড় ও কলার ধরে ফের টান দিলে নিচে পড়ে আঘাত পাই। একজন শিক্ষকের এ ধরনের আচরণে আমি হতবাক। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে তিনি হামলা করেছেন। তার শাস্তি হওয়া উচিত।' এ ঘটনায় তিনি প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

আরেক ছাত্রী প্রক্টর বরাবর একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, 'ধর্মঘট চলাকালে সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল তার অনুসারী শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করেন। এ সময় আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।'

হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো কলাভবন থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন অনুষদ ও সড়ক প্রদিক্ষণ শেষে পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে 'উপাচার্য অপসারণ মঞ্চে' গিয়ে শেষ হয়ে।

হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, একজন সহকারী প্রক্টরের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনা চরম নিন্দনীয়। এ দিয়ে বোঝা যায় উপাচার্য তার পেটোয়া বাহিনী দিয়ে কীভাবে ক্যাম্পাস শাসন করছেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মহিবুর রৌফ শৈবাল বলেন, 'আমি কোনো হামলা করিনি। আমি ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি জয়ের কলার নয়, ঘাড় ধরে গেট থেকে সরিয়ে আনছিলাম। এ সময় নিচে থেকে কেউ একজন আমার তলপেটে ৮-১০টি লাথি মারে। এখন আমি সাভারের এনাম মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছি।'

এ বিষয়ে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, শিক্ষার্থীর ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল।সহকারী প্রক্টর শৈবাল এ সময় জয়কে গেটের সামনে থেকে সরিয়ে আনতে যান। তখন পেছন থেকে কেউ জয়কে ধাক্কা দিলে সে পড়ে যায়। এ ঘটনায় শৈবাল নিজেও আহত হয়েছেন। আর ওই ছাত্রীর অভিযোগপত্র এখনও পাইনি। কারণ আমি হাসপাতালে ছিলাম।'

আরও পড়ুন

×