'ব্যবসা করবেন, টাকা দেবেন না– এটা হয় না'
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০১৯ | ০৭:৩৮
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দাবি করা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে আপাতত কত টাকা দিতে পারবে, তা জানাতে গ্রামীণফোনকে দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'বাংলাদেশে ব্যবসা করা খুবই সহজ। বাংলাদেশের মানুষ মনে করে, আদালতে এসে একবার একটি আবেদন করতে পারলেই হলো, টাকা পয়সা নিয়ে কোনো কায়দায় একবার আটকে দিতে পারলেই হয়, তা ফেরত দেওয়া নিয়ে শুরু হয় গড়িমসি।'
আদালত বলেন, 'ব্যবসা করবেন, টাকা দেবেন না– এটা হয় না।' এ পর্যায়ে আদালত আগামী ১৪ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
আদালতে গ্রামীণফোনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিন ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। বিটিআরসির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
গ্রামীণফোন আপাতত বিটিআরসিকে কত টাকা দিতে পারবে তা ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আদালতকে জানাতে গত ২৪ অক্টোবর আদেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার নির্ধারিত দিনে শুনানি হয়।
গ্রামীণফোনের আইনজীবী এএম আমিনউদ্দিন আদালতে বলেন, 'অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে একশ' কোটি টাকা দেওয়া নিয়ে কথা হয়েছিল। আমরা সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টাকা দেব।'
এ সময় আদালত বলেন, 'পাবে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। আর আপনি কী বলছেন?' আদালত আরও বলেন, 'আপনারা ওখানে আপস করবেন আর আদালতে এসে মামলা করবেন তা হয় না।'
জবাবে আমিনউদ্দিন বলেন, 'তারা সিদ্ধান্ত না মানায় আমরা আদালতে এসেছি।' এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, 'এখানে (বাংলাদেশে) ব্যবসা করা খুবই সহজ। টাকা নিয়ে তা কোনো কায়দায় একবার আটকে দিতে পারলেই হয়। তারপর..।'
এ সময় ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, 'আদালতের আদেশে আমরা (গ্রামীণফোন) ১৬শ' ৬০ কোটি টাকা দিয়েছি। এছাড়াও আরো টাকা দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি দেওয়া হয়েছে।' তিনি বলেন, নিয়ম হচ্ছে প্রতি অর্থবছর শেষে ৯০ দিনে মধ্যে সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের দেনা-পাওনার বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। কিন্তু বিটিআরসি ২০০৩ বা ২০০৪ সাল বা তার আগেরও বকেয়া পাওনা রয়েছে বলে দাবি করছে। এখন এতোদিনের আগের হিসাব আসে কীভাবে? তারপরও আমরা আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে টাকা দিয়েছি।'
এ সময় বিটিআরসির আইনজীবী মাহবুবে আলম বলেন, গ্রামীণফোন এমনি এমনিই টাকা দেয়নি। আদালতের নির্দেশে টাকা দিয়েছে।
তিনি বলেন, অডিটের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ টাকার হিসাব এসেছে। গ্রামীণফোন তখন তো কোনো অভিযোগ করেনি।
এ পর্যায়ে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।