ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: দুদককে সংসদীয় কমিটিতে তলব

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: দুদককে সংসদীয় কমিটিতে তলব
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০১৯ | ০৯:২৩ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০১৯ | ০৯:৫৫

উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নির্লিপ্ততার কারণ জানতে চায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এ জন্য কমিটির পরবর্তী বৈঠকে দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্নিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও বিষয়টি বৈঠকের এজেন্ডায় ছিল না। তবে পরবর্তী বৈঠকে এজেন্ডাভুক্ত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরুর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য সাহারা খাতুন, আবদুল মজিদ খান, শহীদুজ্জামান সরকার, শেখ ফজলে নূর তাপস ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

বৈঠকের পর শেখ ফজলে নূর তাপস উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, 'উচ্চ আদালতের তিনটি মামলার রায়ে বিষয়টি এসেছে। উচ্চ আদালত মনে করছেন, বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। কিন্তু দুদক কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে আমি কমিটিতে বলেছি, আবদুল হাই বাচ্চুকেও আইনের আওতায় আনা উচিত। তার বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, রায়ের নির্দেশনা পালনে দুদক কী ব্যবস্থা নিয়েছে- সংসদীয় কমিটি তা জানতে চায়। এ জন্য দুদককে ডাকা হচ্ছে।'

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় এরই মধ্যে ৫৬টি মামলা হয়েছে। আবদুল হাই বাচ্চু ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকার সময় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুদক তাকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এর আগে সরকারি দলের এই সংসদ সদস্য দুদক চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বলেছিলেন, যদি দায়িত্ব পালন করতে তিনি ব্যর্থ হন, তাহলে দুদক চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত।

এদিকে বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে কমিটির সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস বেসিক ব্যাংক দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্ট থেকে দেওয়া সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা কমিটিকে অবহিত করেন। এ সময় কমিটি হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পরও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং কমিটির পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করে দুদকের চেয়ারম্যানসহ সংশ্নিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের বৈঠকে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া বৈঠকে ভূমি নিবন্ধন ফি নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং নিবন্ধন ফি কীভাবে নির্ধারণ করা হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে রেজিস্ট্রি দলিল হাতে না লিখে শতভাগ দলিল কম্পিউটারে কম্পোজ করে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম সম্পাদনা করতে মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে দেশের জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ভূমি নিবন্ধন পদ্ধতি ডিজিটাইজেশনের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, জনদুর্ভোগ সৃষ্টিতে কারা জড়িত এবং কীভাবে তাদের হাত থেকে জনগণকে সহায়তা প্রদান করা যায়- সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে একটি সংসদীয় সাব-কমিটি গঠন করা হয়। এতে কমিটির সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারকে আহ্বায়ক এবং আবদুল মজিদ খান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও রুমিন ফারহানাকে সদস্য করা হয়।

আরও পড়ুন

×