ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জর্দা গুল খয়েরে প্রাণঘাতী সিসা

জর্দা গুল খয়েরে প্রাণঘাতী সিসা
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:৫৪ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:৫৪

ক্ষতিকর তামাকজাত পণ্যে পাওয়া গেছে প্রাণঘাতী ভারী ধাতব সিসা। দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ২৩ ব্র্যান্ডের তামাকজাত পণ্য জর্দা, গুল ও খয়ের পরীক্ষা করে ভারী ধাতুর উপস্থিতি পেয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। বিভিন্ন বাজার থেকে এই পণ্যগুলো সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে সংস্থাটি। এর সব নমুনাতেই পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মতো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান। এর মধ্যে তামাক খাতের শীর্ষস্থানীয় করদাতা প্রতিষ্ঠান হাকিমপুরী জর্দাও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে বিএফএসের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান।

তিনি জানান, জর্দা, গুল ও খয়েরে পাওয়া এসব ভারী ধাতু, যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বিভিন্ন কোম্পানির মোড়কে বাজারে প্রচলিত এসব পণ্যেও সিসা, ক্যাডমিয়াম এবং ক্রোমিয়াম বিভিন্ন মাত্রায় পাওয়া গেছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএফএসের সদস্য মাহবুব কবির ও মঞ্জুর মোর্শেদ, পরিচালক অসীম কুমার বিশ্বাসসহ সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএফএসএ পরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩টি প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহ করা তামাকজাত পণ্যের সবগুলোতেই ক্ষতিকারক এসব ধাতব পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রতন, জাফরানী, হাকিমপুরী, হকিমপুরী, মকিমপুরী, চাঁদপুরী, শাহী হীরা, গুরুদেব, শাহজাদী (নির্মলের), শাহজাদী (আলম), বউ শাহজাদী, মহিউদ্দিন ও ঢাকা জর্দা এবং ঈগল, মোস্তফা ও শাহজাদা গুলে ক্ষতিকর এসব ধাতব পদার্থ অতিমাত্রায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গিলা, তীর মার্কা, মালাই, অন্তরা, কালো পাথর বাল্ক ও সাদা বাল্ক খয়েরে অতিরিক্ত মাত্রায় ধাতব উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, সরাসরি খাদ্য বস্তুতে সিসা, ক্রোমিয়াম ও ক্যাডমিয়াম গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু এই পণ্যগুলোতে অতিমাত্রায় এই ধাতব পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে কোম্পানিগুলোকে নোটিশ দেওয়া হবে। সংশোধনের জন্য সহযোগিতা করা হবে। এর পরেও সংশোধন না হলে তাদের কারখানা সিলগালা করাসহ আইন অনুযায়ী সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, এমনকি কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানে খয়েরে বার্নিশের রাসায়নিক ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অবহিত করা হবে– দেশের চাহিদার চেয়ে যাতে অতিরিক্ত আমদানি না হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

×