অশীতিপর রাবেয়ার প্রশ্ন
১৮ বছরের ক্ষতিপূরণ কে দেবে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০১৯ | ১৩:৩৩
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার সমীরপুর গ্রামে মেয়ের বাড়িতে অবস্থানরত
হতদরিদ্র অশীতিপর সেই রাবেয়া খাতুন জানতে চেয়েছেন, মিথ্যা মামলায় তার
জীবনের ১৮ বছর সময় নষ্ট হলো, টাকা খরচ হলো, এর ক্ষতিপূরণ কে দেবে? গতকাল
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমকালের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এমন
প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।
পুলিশের করা অস্ত্র মামলায় সাক্ষীর পরিবর্তে আসামি হয়েছিলেন ৮৬ বছরের
রাবেয়া খাতুন। ২০০২ সালের জুনে করা সেই মামলা ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে
১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ছিল। মামলায় ছয় মাস জেলও খেটেছেন
রাবেয়া। তারপর জামিনে বেরিয়ে এসে টানা ১৮ বছর সেই মামলায় আইনি লড়াই করে
গেলেন তিনি।
মামলা নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে রাবেয়ার ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টি গত ২৫ এপ্রিল
সমকালের একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে। এরপর ওই প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের
একজন আইনজীবী আদালতের নজরে আনেন। এরপর আদালতের নির্দেশে রাবেয়ার বিরুদ্ধে
মামলাটি বাতিল চেয়ে জনস্বার্থে রিট করেন আইনজীবী আশরাফুল আলম নোবেল। পাঁচ
মাস বিচার কার্যক্রম শেষে বুধবার সেই মামলা থেকে মুক্তি মিলেছে এই অশীতিপর
নারীর। এভাবে একজন অসহায় নারীর হয়রানিকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মনে
করছেন আইনজ্ঞরা। এজন্য বৃদ্ধা রাবেয়াকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও
দাবি তাদের।
গতকাল রাবেয়া জানিয়েছেন, মামলা চালাতে গিয়ে তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়েও দিন পার করতে হয়েছে
তাকে। বিনা দোষে এভাবে একজন বৃদ্ধার হয়রানি হওয়াকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন
বলে মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না। তিনি সমকালকে
বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস উঠে
যাবে। আইন মানুষকে প্রতিকার দেবে, কিন্তু তা না দিয়ে আইনের মারপ্যাঁচে পড়ে
মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, রাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ
দিতে হবে। কারণ, রাষ্ট্রকে তার প্রটেকশন দেওয়ার কথা ছিল। তা দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সংস্কৃতি চালু হয়নি। এখন
ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হলে এই বৃদ্ধাকে আবার আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হবে।
সেটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। রাবেয়ার ১৮ বছর তো আর ফিরে আসবে না। এ জন্য
গণমাধ্যমকেও এগিয়ে আসতে হবে।
- বিষয় :
- অশীতিপর রাবেয়ার প্রশ্ন