নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আরও ২৬ আপিল
ওয়াকিল আহমেদ হিরন
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:৩৭
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু
কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ২৬ যুদ্ধাপরাধীর করা আপিল সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত
নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এসব মামলায় খালাস চেয়ে আপিল করেছেন
সাজাপ্রাপ্তরা। বিচারের প্রথম ধাপ শেষ হলেও নিষ্পত্তির অপেক্ষা করছেন
ভুক্তভোগী ও শহীদ পরিবার।
গত বৃহস্পতিবার রংপুরের আলবদর নেতা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল
এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এ ছাড়া সাবেক
প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জের জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মুহম্মদ কায়সারের আপিল
শুনানি চলছে। আগামী ১৮ নভেম্বর আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষ চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক
উপস্থাপন করবে।
জানা গেছে, এ পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ১০
যুদ্ধাপরাধীর আপিল সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াত নেতা
আবদুল কাদের মোল্লা, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ,
মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও সর্বশেষ মীর
কাসেম আলীসহ আটজনের ফাঁসি (মৃত্যুদণ্ড) কার্যকর হয়েছে।
এ ছাড়া আপিল বিভাগ একজন যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চূড়ান্ত রায়ে
মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাবাস দিয়েছেন। এ ছাড়া আপিল শুনানির অপেক্ষায়
থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে রাজাকারদের শিরোমণি গোলাম আযম ও জয়পুরহাটের
রাজাকার আবদুল আলীমের। ট্রাইব্যুনালে মামলা চলাকালে মারা গেছে খুলনায়
রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা বাগেরহাটের একেএম ইউসুফ।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পর্যায়ক্রমে আরও শুনানির অপেক্ষায় আছে
ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়ার মোবারক হোসেন, পাবনার মাওলানা আবদুস সুবহান ও
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আফসার হোসেন চুটু ও মাহিদুর রহমান, পটুয়াখালীর ফোরকান
মল্লিক, বাগেরহাটের সিরাজুল হক ও খান আকরাম হোসেন, নেত্রকোনার আতাউর রহমান
ননী ও ওবায়দুল হক খান তাহের, কিশোরগঞ্জের শামসুদ্দিন আহমেদ, মোসলেম প্রধান,
হবিগঞ্জের মহিবুর রহমান বড় মিয়া, মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া ও আবদুর
রাজ্জাক, জামালপুরের সামসুল হক ওরফে বদর ভাই ও এসএম ইউসুফ আলী, যশোরের
সাবেক এমপি জামায়াত নেতা সাখাওয়াত হোসেন ও বিল্লাল হোসেন, নোয়াখালী
সুধারামের আমীর আলী ও জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজারের উজের আহমেদ ও ইউনুছ আহমেদ
এবং ফুলবাড়িয়ার রিয়াজউদ্দিন ফকিরের আপিল। অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া
আমৃত্যু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পিরোজপুরের সাবেক এমপি পলাতক জব্বার ইঞ্জিনিয়ারের
সাজা বৃদ্ধির (মৃত্যুদণ্ড) চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টে এসব
আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হাননান খান সমকালকে বলেন, আপিল বিভাগে
জমে থাকা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো দ্রুত শুনানি করে নিষ্পত্তি করা
হোক। তিনি বলেন, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল
গঠন করা হয়েছিল। বিচারপ্রত্যাশীরা চাচ্ছিলেন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি
হবে। আমরাও চাই আপিলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হোক।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম সমকালকে বলেন,
আরও ২৬ যুদ্ধাপরাধের আপিল শুনানি হচ্ছে না। এতে করে ভুক্তভোগী পরিবারে
হতাশা বাড়ছে এবং তারা সংক্ষুব্ধ। কেননা, সাক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালে ৩৩টি মামলা :আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ৩৩টি
মামলার কার্যক্রম চলছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে এ বছর চারটি মামলার রায় ঘোষণা
করা হয়েছে। গত ৯ বছরে ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও
জাতীয় পার্টির একাধিক নেতাসহ ৯৮ রাজাকারের বিরুদ্ধে ৪১টি মামলার রায় ঘোষিত
হয়েছে। আরও ২৪টি অভিযোগ তদন্তাধীন। আরও নতুন মামলা যুক্ত হচ্ছে।
- বিষয় :
- যুদ্ধাপরাধী