ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

করোনায় নতুন দরিদ্ররা বিকল্প সহায়তা পাবেন

করোনায় নতুন দরিদ্ররা বিকল্প সহায়তা পাবেন
×

আবু কাওসার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২০ | ১২:০০

করোনাকালে কর্মহীন দুস্থদের জন্য ১০ টাকা দামে চাল বিতরণের যে বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হয়, তা বন্ধ রেখেছে সরকার। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এর আওতায় উপকারভোগীদের মধ্যে এ চাল বিতরণ করা হয়। গত ৩০ জুন এ কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হয়। সময় আরও বাড়ানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে তা বন্ধ করা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, করোনার প্রাদুর্ভাবে অতিরিক্ত প্রায় দুই কোটি লোক নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে এসেছে। আয়-উপার্জন না থাকায় এদের জীবনযাপন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যারা নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে এসেছে, তাদের সহায়তা দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এটা নগদ টাকা অথবা অন্য কিছু হতে পারে। এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সামাজিক সুরক্ষা দিতে এরই মধ্যে ৫০ লাখ দুস্থ পরিবারকে এককালীন নগদ আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
সরকার দাবি করছে, মোট জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশ দরিদ্র ছিল, যা তিন কোটির বেশি। করোনার অভিঘাতে পাঁচ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার আওতায় চলে এসেছে, যা মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশের কাছাকাছি। সম্প্রতি সরকারি-বেসরকারি গবেষণা সংস্থার পরিসংখ্যানে এ চিত্র উঠে
এসেছে। করোনার কারণে কর্মহীন লোকের সংখ্যা বাড়ছে। এতে সমাজে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, করোনাকালীন জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৯-২০) দেশে রেকর্ড খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে। আগামীতে দেশে খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) বিশেষ কর্মসূচির আওতায় শহরে গরিব লোকদের ১০ টাকার ৭০ হাজার টন চাল বিতরণ করা হয়। এর জন্য বরাদ্দ ছিল ৮০ হাজার টন। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিবার প্রতি পরিবারে ২০ কেজি চাল দেওয়া হয়। এ কর্মসূচির আওতায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে একপর্যায়ে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এ অভিযোগ ঠিক নয়। দুর্নীতি হয়েছিল গ্রাম এলাকায় চলমান খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ নিয়ে। শহরে গরিব লোকদের জন্য চালু করা বিশেষ কর্মসূচিতে কোনো অনিয়ম হয়নি। তিনি জানান, বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু অনিয়ম থাকার কারণে স্থগিত করা হয়। করোনা যাতে সংক্রমণ না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে পরে আবার তা চালু করা হয়, যার মেয়াদ ছিল ৩০ জুন।
সংগ্রহ অভিযান ধীরগতি :করোনাকালে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত মে মাসের শেষে অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ (ধান-চাল) শুরু করেছে সরকার। এবার ধান-চাল মিলে মোট সাড়ে ১৯ লাখ টন ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকার সাড়ে ১১ লাখ টন চাল কিনবে ৩৬ টাকা করে। বাকি আট লাখ টন ধান কেনা হবে ২৮ টাকা করে। খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩০ শতাংশ ক্রয় করা হয়েছে। এখন করোনা সংক্রমণের 'পিকটাইম' চলছে। একে তো বর্ষাকাল, তার ওপর উত্তরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব কারণে সংগ্রহ অভিযানে ভাটা পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, মিলারসহ একটি সিন্ডিকেট চক্র খাদ্যশস্য মজুদ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে সংগ্রহ কম হচ্ছে। তবে খাদ্য অধিদপ্তর বলেছে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় আছে। পর্যাপ্ত ধান কিনতে না পারলে এ সময়ের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী চাল সংগ্রহ সম্ভব হবে।
খাদ্য সচিব ড. নাজমানারা খানুম বলেন, যারা মজুদ করছে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


আরও পড়ুন

×